মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি : মুন্সীগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবি পুলিশের অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৬ ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডাকাতারা ডিবি পুলিশের পরিচয়ে ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছিল। ৬ ডাকাতের মধ্যে একজন চাকরিচুত্য পুলিশ সদস্য, একজন বরখাস্তকৃত পুলিশ সদস্য এবং একজন চাকরিচুত্য সেনা সদস্য রয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে লৌহজংয়ের পদ্মা সেতুর উত্তর থানার পদ্মা সেতু টোলপ্লাজায় তাদের আটক করা হয়। জেলা পুলিশ সুপার এক প্রেস বিজ্ঞিপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।  

প্রেস বিজ্ঞিপ্তিতে বলা হয়, জেলা বিডি পরিদর্শক মোঃ মহিদুল ইসলাম এবং এসআই (নিরস্ত্র) আবুল কালাম আজাদ এর নেতৃত্বে জেলা গোয়েন্দা শাখা ডিবি পুলিশশের একটি চৌকস টিম লৌহজংয়ের পদ্মা সেতু (উত্তর) ও শ্রীনগর থানা এলাকায় মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও অবৈধ অস্ত্র, গোলাবারুদ উদ্ধারের লক্ষ্যে অভিযান ডিউটি করাকালীন শনিবার সকাল ১১.২৫ ঘটিকার সময় পদ্মা সেতু (উত্তর) থানাধীন মাওয়া চৌরাস্তায় অবস্থান কালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, একটি সিলভার রংয়ের হাইয়েচ মাইক্রোবাস যোগে কতিপয় ব্যক্তি শ্রীীনগর ও পদ্মা সেতু (উত্তর) থানাধীন ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে আইনশুঙ্খলা বাহিনীর ছদ্মবেশে ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে শ্রীনগর থানা এলাকা হতে মাওয়া টোল প্লাজার দিকে আসছে। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে জেলা গোয়েন্দা শাখার টিম পদ্মা সেতু (উত্তর) থানাধীন মেদেনীমন্ডল সাকিনস্থ পদ্মা সেতুর উত্তর প্রান্তের টোল প্লাজায় চেক পোস্ট পরিচালনা করে টোল প্লাজার ৪ নম্বর লেনে একটি সিলভার রংয়ের হাইয়েচ মাইক্রোবাস সন্দেহজনকভাবে দ্রুতত গতিতে কাউন্টার পার হওয়ার চেষ্টা করলে বেলা ১২.২০ ঘটিকার সময় উক্ত গাড়িটি থামাতে সক্ষম হয়।

তাৎক্ষনিক ভিতরে থাকা ড্রাইভারের বাম পাশের সিটে বসা ব্যক্তি তার ডান হাতে থাকা ওয়ারলেস (ওয়াকিটকি) সেট দেখিয়ে নিজেকে ডিবি পুলিশের অফিসার পরিচয় দেয়। তখন জেলা গোয়েন্দা শাখার সদস্যগণ বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করলে ভিতরে থাকা আসামীরা আতঙ্কিত হয়ে গাড়ির দুই পাশের গ্লাস ভেঙ্গে বের হয়ে পালানোর চেষ্টাকালে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ও ফোর্স গাড়ির ড্রাইভারসহ ৬ জন ডাকাতকে আটক করে এবং তাদের বহনকারী গাড়ি ও তাদের নিকট থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ছদ্মবেশ ধারণ করে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামাদি উদ্ধার করে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামীরা স্বীকার করে যে, তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এসব সরঞ্জামাদি ব্যবহার করে দীর্ঘদিন যাবৎ ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েসহ আশপাশ এলাকায় ডাকাতি করে আসছে। তারা ঢাকা থেকে বিভিন্ন দিকে টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে বাসে চলাচলকারী যাত্রীদের টার্গেট করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয় দিয়ে রাস্তায় বাস থামিয়ে আইনগত অভিযানের নামে যাত্রীদের বাস থেকে নামিয়ে নিয়ে তাদের নিজস্ব গাড়িতে উঠিয়ে যাত্রীকে মারপিট করে এবং তাদের সর্বস্ব লুটে নিয়ে সুবিধাজনক জায়গায় তাদেরকে নামিয়ে দিয়ে থাকে।

আসামিদের বিরুদ্ধে পদ্মা সেতু (উত্তর) থানার মামলা নং-০৬, ধারা-১৭০/১৭১/৩৯৯/৪০২ পেনাল কোড রুজু করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে ০১ (এক) জন চাকরিচ্যুত পুলিশ সদস্য, ০১ (এক) জন বরখাস্তকৃত পুলিশ সদস্য এবং ০১ (এক) জন চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য। আসামীদের নামে পূর্বেও একই ধরণের অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে।

আসামিদের নিকট হতে উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে, ১ টি সিলভার রংয়ের পুরাতন হাইয়েচ মাইক্রোবাস, ১টি কালো রংয়ের ওয়ারলেস সেট (ওয়াকিটকি), ১টি কালো রংয়ের প্লাস্টিকের খেলনা পিস্তল, ১ জোড়া স্ট্রিলের হ্যান্ডকাপ, ১টি ব্লু রংয়ের কাপড়ের অফিস ব্যাগ, যাহা চেইনযুক্ত এবং এর ভিতর রক্ষিত ৪টি টি খয়েরী বাদামী রংয়ের ডিবি পুলিশের কটি। যাহার প্রতিটির কোটির সামনের ডান পাশে পুলিশের মনোগ্রামযুক্ত প্রিন্ট করাত, ১টি টি কালো রংয়ের ইলেকট্রিক শক মেশিন এবং ১টি ব্লু রংয়ের চায়না লেজার লাইট।

গ্রেপ্তারকৃত আসমিরা হল- ঢাকার ডেমরায় আনোয়ার হোসেনর পুত্র মোঃ বশির হাওলাদার (৫৬), তার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বে ৯টি মামলা রয়েছে, ঢাকার সবুজবাগ থানার মো. আলম হোসেনের পুত্র মোঃ কাজল ইসলাম জিকু (৩০), তার বিরুদ্রেধ পূর্বের ০৭ টি মামলা রয়েছে, ঢাকার কদমতলী থানার মৃত হাহেব আলীর পুত্র মোঃ হীরা বেপারী (৪৮) তার বিরুদ্ধে পূর্বের ০৩ টি মামলা রয়েছে, ঢাকার খিলগাও থানার আব্দুল জলিলের পুত্র মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান রাজু সে একজন চাকরিচ্যুত সেনা সদস্য ও তার বিরুদ্ধে পূর্বের ০২ টি মামলা রয়েছে, ঢাকার বাড্ডা থানার মো. জাকির হোসেনের পুত্র মোঃ রুবেল রানা (৩০), পিতা-মোঃ জাকির হোসেন, সে বরখাস্তকৃত পুলিশ সদস্য ও তার বিরুদ্ধে পূর্বের ১ টি মামলা রয়েছে এছাড়া দক্ষিন খান থানার মো. এরশাদ মিয়ার পুত্র মোঃ ফয়সাল রাব্বি (২১)।

(এমকে/এসপি/জানুয়ারি ২৪, ২০২৬)