ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক : অংশীদারি ব্যবসার চুক্তিপত্র ভঙ্গ করে প্রতিষ্ঠানের অননুমোদিত দশ লাখ পাঁচশ ডলার উত্তোলন মামলায় নিউ ইয়র্কের ফার্ষ্ট এইড হোম কেয়ার ইনকর্পোরেটেড-এর সাবেক কর্মকর্তা ও নায়ক হেলাল খানের বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত স্বীকারোক্তিমূলক রায় প্রদান করেছে আদালত। তিনি বিএনপির অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) এর আহবায়ক।

নিউ ইয়র্কের সাফোক কাউন্টিতে দাখিল করা আদালত নথি অনুযায়ী, ফার্ষ্ট এইড হোম কেয়ার, ইনকর্পোরেটেড.-এর সাবেক কর্মকর্তা হেলাল খানের বিরুদ্ধে গত বছর ৭ অক্টোবর দশ লাখ পাঁচশ ডলারের একটি 'প্রস্তাবিত স্বীকারোক্তিমূলক রায়' দাখিলের প্রস্তাব করেন সংশ্লিষ্ট মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী।

আদালত কাগজপত্রে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৬ জানুয়ারি হেলাল খান একটি স্বীকারোক্তিমূলক রায়ের অ্যাফিডেভিটে স্বাক্ষর করেন, যা সিপিএলআর §৩২১৮ অনুযায়ী সাফোক কাউন্টি ক্লার্কের দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। এর ভিত্তিতে আদালত তাকে একাধিক বাদীর অনুকূলে দশ লাখ পাঁচশ ডলার পরিশোধে দায়ী ঘোষণার প্রস্তাব করেন।

অভিযোগে জানা যায়, ঋণগ্রহীতা যথাযথভাবে শপথ গ্রহণ করে জবানবন্দি প্রদান করেন যে, তিনি সাফোক কাউন্টিতে উপরে বর্ণিত ঠিকানায় বসবাস করেন এবং ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে সম্পাদিত একটি প্রমিসরি নোট (এর একটি অনুলিপি সংযুক্ত ‘এক্সহিবিট এ’) অনুযায়ী বিনিয়োগকারীদের কাছে যে ন্যায্য ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন। সেই ঋণের জন্য তাসমিয়া এফ. আহমেদ, আতীকুল ইসলাম, নাহিদ আহমেদ, ফাহাদ আর.সোলায়মান, শাহ জে. চৌধুরী, রুকন হাকিম, মোহাম্মদ রেজু ও মোহাম্মদ আল আমিন মিয়া (সমষ্টিগতভাবে 'বিনিয়োগকারী' বা 'পাওনাদার') এর অনুকূলে এই প্রস্তাবিত স্বীকারোক্তিমূলক রায় প্রদান করেন।

তিনি ফার্ষ্ট এইড হোম কেয়ার, ইনকর্পোরেটেড বা কর্পোরেশন নামক একটি নিউ ইয়র্ক কর্পোরেশনের শেয়ারহোল্ডার ছিলেন এবং ৩০ নভেম্বর ২০২১ থেকে তিনি ওই প্রতিষ্ঠানের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই হিসেবে তিনি প্রতিষ্ঠানের দৈনন্দিন কার্যক্রম ও ব্যবসা পরিচালনা করতেন।
তিনি বর্তমানে আর ফার্ষ্ট এইড হোম কেয়ার-এর প্রেসিডেন্ট নন এবং তাকে ওই পদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে।

শেয়ারহোল্ডার হিসেবে তিনি ৩১ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখের ফার্ষ্ট এইড হোম কেয়ার -এর তৃতীয় সংশোধিত ও পুনর্গঠিত শেয়ারহোল্ডার চুক্তির (শেয়ারহোল্ডার এগ্রিমেন্ট) অধীন ছিলেন।
প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তিনি শেয়ারহোল্ডার চুক্তি লঙ্ঘন করে অনুমোদনহীনভাবে নগদ অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করেন এবং ফার্ষ্ট এইড হোম কেয়ার -এর হিসাব থেকে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য একাধিক অননুমোদিত অর্থ উত্তোলন করেন।

আনুমানিক ১৬ জানুয়ারি তারিখে ফার্ষ্ট এইড হোম কেয়ার থেকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহৃত ওই নগদ অগ্রিম বাবদ ১২ লাখ ডলার পরিশোধ ও নিষ্পত্তি করেন এবং অতিরিক্ত দশ লাখ পাঁচশ ডলার ব্যয় বহনের অঙ্গিকার করেন। ১৬ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে তিনি বিনিয়োগকারীদের কাছে উক্ত ৬৫ হাজার ডলার ফেরত দেওয়ার জন্য একটি নোট স্বাক্ষর করেন।

উক্ত নোট অনুযায়ী, ঋণগ্রহীতা হিসেবে তিনি পাওনাদারদের কাছে মোট পঁয়ষট্টি হাজার ডলার পরিশোধে দায়বদ্ধ, যা নোটের তারিখ থেকে পাঁচ (৫) মাসের মধ্যে পরিশোধযোগ্য বলে উল্লেখ করা হয়।

নোটে উল্লেখ রয়েছে, তিনি যদি নোটের শর্ত অনুযায়ী ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হন বা অন্য কোনোভাবে নোট বা অঙ্গিকার ভঙ্গ করেন, তবে পাওনাদাররা অতিরিক্ত নোটিস ছাড়াই এই 'প্রস্তাবিত স্বীকারোক্তিমূলক রায়' দাখিল ও কার্যকর করতে পারবেন এবং বকেয়া অর্থের পাশাপাশি যুক্তিসঙ্গত আইনজীবী ফি, খরচ ও আদালত ফি আদায় করতে পারবেন। তিনি নোট অনুযায়ী পাওনাদারদের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন।

সিপিএলআর §৩২১৮ অনুযায়ী তিনি পাওনাদারদের অনুকূলে দশ লাখ পাঁচশ ডলার অর্থের জন্য এই মর্মে উক্ত রায় স্বীকার করেছেন।

তিনি এই মর্মে আদালতকে অনুমোদন দিন যে,তার বিরুদ্ধে দশ লাখ পাঁচশ ডলার (নোট অনুযায়ী পরিশোধিত অর্থ বাদ দিয়ে), ডিফল্টের তারিখ থেকে বার্ষিক ১০% সুদসহ এবং পাওনাদারদের বহনকৃত যুক্তিসঙ্গত আইনজীবী ফি, খরচ ও আদালত ফি যুক্ত করে রায় প্রদান করা হোক, যখন এই অ্যাফিডেভিট ও পাওনাদার পক্ষের আইনজীবীর পক্ষ থেকে বকেয়া অর্থ সংক্রান্ত অ্যাফিডেভিট আদালতে দাখিল করা হবে। উক্ত অ্যাফিডেভিট কোনো অনিশ্চিত রায়ের বিরুদ্ধে পাওনাদারকে সুরক্ষা দেওয়ার উদ্দেশ্যে করা হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নথি অনুযায়ী বাদীরা বিবাদী হেলাল খানের বিরুদ্ধে এই স্বীকারোক্তিমূলক রায় চান। প্রস্তাবিত আদেশে বলা হয়েছে, হেলাল খানকে দশ লাখ পাঁচশ ডলারের পাশাপাশি ১৬ জুন ২০২৫ থেকে রায় কার্যকর হওয়া পর্যন্ত বার্ষিক ১০ শতাংশ সুদ দিতে হবে। সেই সঙ্গে আদালত ক্লার্ক কর্তৃক নির্ধারিত খরচ ও অন্যান্য ব্যয়ও পরিশোধ করতে হবে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, উপরোক্ত অর্থ, সুদ ও খরচসহ বাদীপক্ষের অনুকূলে এবং বিবাদীর বিরুদ্ধে প্রস্তাবিত রায় আনুষ্ঠানিকভাবে এন্ট্রি করার জন্য সাফোক কাউন্টি ক্লার্ককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই রায় কার্যকর হলে বাদীপক্ষ হেলাল খানের বিরুদ্ধে অর্থ আদায়ের জন্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার পাবেন। মামলাটি বর্তমানে সাফোক কাউন্টিতে বিচারাধীন রয়েছে। বাদীপক্ষে উক্ত মামলাটি পরিচালনা করেন আইনজীবী নাটালি গুরিন।

(আইএ/এসপি/জানুয়ারি ২৫, ২০২৬)