গোপালগঞ্জে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীর নির্বাচনী ইশতেহার
তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গোপালগঞ্জ ২ আসনের ১০ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ নেতা মুফতি শুয়াইব ইব্রাহিম নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
আজ সোমবার দুপুরে শহরের বিসিক সংলগ্ন খেলাফত মজলিশের জেলা কার্যালয়ে তিনি সংবাদ সম্মেলন করে এ ইস্তেহার ঘোষণা করেন । মুফতি শুয়াইব ইব্রাহিম নির্বাচনী ইস্তেহারে বলেন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, দক্ষতা উন্নয়ন, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা কাজ করে গোপালগঞ্জকে বসবাসযোগ্য করে তুলবে। পরে তিনি বিভিন্ন উন্নয়নের বিষয়ে ব্রিফিং করেন।
১. শিক্ষা উন্নয়ন : “গোপালগঞ্জ-২ হবে শিক্ষায় অগ্রগামী- প্রতিটি ইউনিয়নে স্কুল-কলেজ উন্নয়ন প্রকল্প, ভবন সংস্কার ও আধুনিক শিক্ষা উপকরণ নিশ্চিতকরণ।,মেধাবী অসহায় শিক্ষার্থীর জন্য বৃত্তি ও আর্থিক সহায়তা তহবিল গঠন। স্মার্ট ক্লাসরুম ও আইসিটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে ডিজিটাল শিক্ষা নিশ্চিত করণ। নারী শিক্ষার হার বাড়াতে নিরাপদ পরিবেশ, পরিবহন ব্যবস্থা ও উন্নত স্যানিটেশন ব্যবস্থা। সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং নৈতিকতা ভিত্তিক সমন্বিত শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবতন।
২. কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন : “যুবকের হাতে কাজ, পরিবারের মুখে হাসি” কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মানোন্নয়ন এবং বিস্তৃত প্রশিক্ষণের যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ। (আইটি, ইলেকট্রিক্যাল, অটোমোবাইল, গারমেন্টস ইত্যাদি)। এসএমই উদ্যোগ-ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য প্রশিক্ষণ, সুদমুক্ত ঋণ ও বিপণন সহায়তা। তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে স্টার্টআপ সহায়তা তহবিল গঠন। নারীদের জন্য হোম-বেইজড কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি। কৃষিভিত্তিক উদ্যোক্তা-পোল্ট্রি, মৎস্য, দুগ্ধ এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণে সহায়তা প্রদান।
৩. কৃষি ও কৃষক উন্নয়ন: “কৃষকের ঘরে সমৃদ্ধি : কৃষি দপ্তরের সেবা স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা। সেচ, খাল পুনঃখনন ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত করে উৎপাদন বাড়ানো। কৃষিপণ্য সংগ্রহ কেন্দ্র, কোল্ড স্টোরেজ ও বিপণন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন। ভেজালমুক্ত সার, বীজ ও কীটনাশক নিশ্চিতকরণে কঠোর তদারকি। কৃষিযন্ত্র, লিজ ব্যবস্থা এবং যান্ত্রিকীকরণে কৃষক প্রশিক্ষণ। নতুন প্রযুক্তি ছড়িয়ে দিতে এগ্রি এক্সটেনশন সাপোর্ট টিম।
৪. স্বাস্থ্যসেবা : “সবার জন্য সহজলভ্য ও মানবিক চিকিৎসা : উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ ঘণ্টা জরুরি সেবা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের উপস্থিতি নিশ্চিত করণ। প্রতিটি কমিউনিটি ক্লিনিকে পর্যাপ্ত ওষুধ, মাতৃস্বাস্থ্য সেবা ও প্রশিক্ষিত কর্মী নিয়োগ প্রদান গ্রামের মানুষকে দ্রুত চিকিৎসা দিতে অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। নিম্ন আয়ের মানুষকে স্বল্পমূল্যের স্বাস্থ্যসেবা কার্ড প্রদান।
৫. অবকাঠামো ও জনসেবা : গ্রাম ও শহরে সড়ক, ব্রিজ-কালভার্ট, ড্রেসেজ ব্যবস্থার পরিকল্পিত উন্নয়ন ,প্রতিটি পরিবারে নিরাপদ পানি, বিদ্যুৎ ও ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়া। বাজার, খেলার মাঠ, কমিউনিটি সেন্টার ও যুব কেন্দ্র নির্মাণ। আধুনিক নগরায়ণ ও পরিবেশবান্ধব টেকসই জনসেবা সম্প্রসারণ।
৬. সুশাসন ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন : ভূমি, কৃষিসেবা, ভাতা ইত্যাদি সহজ করতে ফ্রি অনলাইন জনসেবা ডেস্ক। দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্যসহনশীলতা নীতি অবলম্বন। নাগরিক মতামত ভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জনমিতি মনিটরিং কমিটি।
৭. সামাজিক উন্নয়ন ও মানবিক সহায়তা : মসজিদ-মাদ্রাসা, ঈদগাহ, কবরস্থান ও উপাসনালয় উন্নয়ন। প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষের জন্য সহায়তা বৃদ্ধি। যুবকদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি চর্চা ও নৈতিক উন্নয়নের কর্মসূচি। জঙ্গিবাদ, মাদক ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে সমন্বিত উদ্যোগ।
৮. গোষ্ঠীগত দ্বন্দ্ব, সহিংসতা ও রক্তপাত বন্ধে শান্তিসম্প্রীতির উদ্যোগ : গোপালগঞ্জ-২ এর একটি দীর্ঘদিনের ক্যান্সার-গোষ্ঠীগত মারামারি, স্বন্দ্ব ও খুনোখুনি। এ ধরনের অশান্তি আমাদের উন্নয়নকে পিছিয়ে দেয়। তাই আমার প্রধান অঙ্গীকার।
৯. “সম্প্রীতি ফোরাম” গঠন : প্রতিটি ইউনিয়নে শিক্ষক, আলেম-ওলামা, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও তরুণদের নিয়ে সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্ব ফোরাম গঠন। প্রাক-সমঝোতা বোর্ড, থানা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে সমঝোতা বোর্ড-যাতে ছোট বিরোধ বড়ো সংঘাতে পরিণত না হয়। শিক্ষা ও তরুণ সমাজকে সম্প্রীতির পথে যুক্ত করা বিদ্যালয়ে শান্তি, সহনশীলতা ও নৈতিকতা বিষয়ক সচেতনতা। খেলাধুলা, বিতর্ক, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান-যুবকদের ইতিবাচক পথে ব্যস্ত রাখা। ধর্মীয় ও সামাজিক নেতাদের ভূমিকা, প্রতিটি এলাকায় শান্তি সম্প্রীতি প্রচারণা সপ্তাহ পরিচালনা। “ভালোবাসার গোপালগঞ্জ- ২ চুক্তি, জয়ের পর জনগণকে নিয়ে উপজেলা-স্তরে শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব ঘোষণা। দ্রুত হস্তক্ষেপ ব্যবস্থা সংঘাতের ইঙ্গিত পেলেই প্রশাসন ও কমিউনিটির যৌথ উদ্যোগে দ্রুত হস্তক্ষেপ ইউনিট সক্রিয় করা।
১০. সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ : ইসলামের দৃষ্টিতে একটি ইসলামি রাষ্ট্রে একজন মুসলিম নাগরিকের যে পরিমাণ নিরাপত্তা থাকবে, একজন অমুসলিমেরও সেই পরিমাণ নিরাপত্তা থাকবে। গোপালগঞ্জ-২ এ বসবাসরত সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের নাগরিকের সমান অধিকার, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে ইনশাআল্লাহ। সংখ্যালঘু পরিবার, উপাসনালয় ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রশাসনিক সমন্বয়। ধর্মীয় স্বাধীনতা ও উৎসব পালনে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান। বৈষম্য ও নিপীড়নের দ্রুত অভিযোগে গ্রহণ ও প্রতিকার ব্যবস্থা।
এসময় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নেতা মুফতি মোরতাজা হসান, উপদেষ্টা মুফতি মাসউদুর রহমান ও মাওলানা ওমর ফারুক, ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য গোপালগঞ্জ ২ আসনের সদস্য সচিব মুফতি আহমাদুল্লাহ, গোপালগঞ্জ জামায়াতে ইসলামী প্রাচার ও মিডিয়া বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডভোকেট কাজী ইজহারুল ইসলাম ও খেলাফত মজলিসের সহ-সভাপতি মুফতি আবুল ফাতাহ’সহ ১০ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন নেতাকর্মী ও সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
(টিবি/এসপি/জানুয়ারি ২৬, ২০২৬)
