স্টাফ রিপোর্টার : দেশের বাইরে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) অফিস খোলার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রাথমিকভাবে চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে এসব অফিস খোলা হতে পারে।

আর এসব অফিসের কর্মচারীদের বেতন হবে বিনিয়োগের ওপর ভিত্তি করে কমিশনভিত্তিক। মূলত বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতেই এ সিদ্ধান্তের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক বিন হারুন। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) চতুর্থ গভর্নিং বোর্ড সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে প্রধান উপদেষ্টা ও গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস সভাপতিত্ব করেন।

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন, ‘দেশের বাইরে বিডার কোনো অফিস করার সুযোগ হবে কি না- এটি নিয়ে আলোচনা ছিল। এটার ব্যাপারে আমরা একটা ইনিশিয়াল নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে চীন, সাউথ কোরিয়া, ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কোনো একটা দেশে আমরা ধীরে ধীরে বিডা অফিস সেটআপ করা শুরু করবো। এখানে আসলে উদ্দেশ্য হচ্ছে এফডিআই নিয়ে আসা।’

তিনি বলেন, ‘ওই অফিসের ফুল স্ট্রাকচারটাই হবে পেমেন্ট বেজড বা কেপিআই বেজড। উনারা যদি ইনভেস্টমেন্ট আনতে পারেন তাহলে ওখান থেকে একটা স্যালারি বা কোনো ধরনের কমিশন বা যেটাই বলেন ভেরিয়েল পে পাবেন। আমাদের এক্সপেক্টেশন হচ্ছে চীনে যেই অফিসটা হবে সেখানে আমরা চাইনিজ ইন্ডিভিজুয়ালদেরই দিতে চাই। কারণ চাইনিজ যারা আছেন, তারাই সেখান থেকে বিনিয়োগ আনার জন্য উপযুক্ত।’

বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘বিডার একটা বড় ম্যান্ডেট ছিল প্রাইভেটাইজেশন। সরকারি যেগুলা অ্যাসেট সেগুলাকে প্রাইভেটাইজ করা। প্রাইভেটাইজেশনটা কীভাবে করা হবে সে ব্যাপারে কোনো ধরনের গাইডলাইন ছিল না। সেই পুরা প্রসেসটাকে আজ আমরা অ্যাপ্রুভ করিয়েছি। সো ভবিষ্যতে আমরা এটাকে ইউটিলাইজ করতে পারবো।’

আশিক চৌধুরী আরও বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে আমাদের একটা বড় ফোকাস থাকবে গভীর সমুদ্রবন্দরকে ভালোভাবে চালু করা। আমাদের এলএনজি ও এলপিজি টার্মিনাল চালু করা। কারণ এটা আমাদের এখন আপনারা সবাই জানেন যে এনার্জি শর্টেজ ইজ এ বিগ প্রবলেম। তো আমরা খুব দ্রুত এলপিজি ও এলএনজি টার্মিনালটা চালু করতে চাই। একই সঙ্গে একটা ফিশ প্রসেসিং হাব তৈরি করা। এই তিনটাকে মাথায় রেখে আমাদের এই শর্টটার্ম ল্যান্ড ইউজ প্ল্যানটা ফাইনাল করা হয়েছে। পরবর্তী সরকার এগুলো বাস্তবায়ন করবে।’

(ওএস/এএস/জানুয়ারি ২৭, ২০২৬)