স্টাফ রিপোর্টার : জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘মা-বোনদের সম্মানে যেখানে হাত দেওয়া হবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান জানাচ্ছি। মা-বোনদের নিরাপত্তা, সম্মান, মর্যাদা সবার আগে।’

তিনি বলেন, ক্ষমতায় গেলে সিন্ডিকেটের হাত গুড়িয়ে দেওয়া হবে। চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণায় যশোর ঈদগাহে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত এক সমাবেশে এ কথা বলেন তিনি।

ভোর থেকেই যশোর এবং আশপাশের এলাকাগুলো থেকে আসা নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় ভরে যায় ঈদগাহ।

সমাবেশে জামায়াত আমির ঘোষণা করেন, ক্ষমতায় যেতে পারলে যশোর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হবে।

গণভোটে হ্যাঁয়ের পক্ষে থাকার আহ্বান জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গণভোট নিয়ে অনেকে নাখোশ।

গণভোট জয়ী হলে কারো সম্পত্তিতে হাত দিতে পারবে না, চাঁদাবাজি করতে পারবে না। গণভোটে হ্যাঁ মানে আজাদী। ১২ তারিখ প্রথম ভোট হ্যাঁ-এর পক্ষে। হ্যাঁ ভোটের বিজয়ের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ বিজয়ী হবে।

হ্যাঁ ভোট বিজয়ী না হলে কোনো সরকার বিজয়ী হয়ে দেশের লাভ হবে না।’

বিএনপিকে ইঙ্গিত করে জামায়াতের আমির বলেন, একদিকে ফ্যামিলি কার্ড, অন্যদিকে মা-বোনদের দিকে হাত। তারা জয়ী হলে মা-বোনেরা নিরাপদ থাকবে না।’

মায়ের অপমান জামায়াত সহ্য করবে না উল্লেখ করে শফিকুর রহমান বলেন, ‘মা-বোনদের সম্মানে যেখানে হাত দেওয়া হবে, সেখানেই প্রতিরোধ গড়ার আহ্বান জানাচ্ছি। মা-বোনদের নিরাপত্তা, সম্মান, মর্যাদা সবার আগে।
মেয়েদের বড় শহরগুলোতে আলাদা যোগাযোগ ব্যবস্থা করা হবে।’

সরকারি বাহিনীগুলোকে জনগণের পক্ষে থাকার আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘অনুরোধ করছি, কোনো পক্ষের হয়ে কাজ করবেন না।’

উপস্থিত নেতা-কর্মী-সমর্থকদেরকে শফিকুর রহমান বলেন, ‘জামায়াতকে ভোট দেবেন। চাঁদাবাজি, দুর্নীতি, সিন্ডিকেট ভেঙে নতুন ন্যায় বিচারের দেশ গড়ার জন্য ভোট দেবেন। কোনো ভয়ে এ দলকে থামানো যাবে না। যত মারবেন এ সংগঠন আরো বাড়বে। যারা মিথ্যা প্রোপাগান্ডা করেছিল, তারা এখন নাই।’

সমাবেশে জামায়াত আমির আরও বলেন, ‘মামলা বাণিজ্য করে জনগণকে অতিষ্ঠ করে ফেলা হয়েছে। জামায়াত মামলা বাণিজ্য করেনি।’

বক্তব্য শেষে জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. শফিকুর রহমান যশোরের ৬টি আসনের প্রার্থীদের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক হাতে তুলে দিয়ে ‘কোন সে মার্কা, দাড়িপাল্লা, জিতবে কে, দাঁড়িপাল্লা’ স্লোগান দেন।

সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ মোবারক হোসাইন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দাম, যশোর-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান, যশোর-২ আসনের ডা. মোসলেহউদ্দিন ফরিদ, যশোর-৩ আসনের আব্দুল কাদের, যশোর-৫ আসনের অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক, যশোর-৬ আসনের মোক্তার আলী এবং এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতা খালিদ সাইফুল্লাহ জুয়েল।

(ওএস/এএস/জানুয়ারি ২৭, ২০২৬)