উজবেকিস্তানে প্রস্তাবিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে রসাটমের গণশুনানি
বিশেষ প্রতিনিধি : মধ্য এশীয় দেশ উজবেকিস্তান রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রসাটমের সহায়তায় জিজাখ অঞ্চলের ফরিশ জেলায় ছোট এবং বড় আকারের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মানের পরিকল্পনা করছে। সম্প্রতি প্রস্তাবিত এই প্রকল্প নিয়ে রসাটম সম্প্রতি এতদঞ্চলের অধিবাসীদের জন্য একটি গণশুনানির আয়োজন করে। এ সময় বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে আধুনিক ও নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে বলে রসাটমের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়, যা মানুষের জীবন ও পরিবেশের ওপর কোনো বিরূপ প্রভাব ফেলবে না। রসাটমের মিডিয়া উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর জানিয়েছে।
গণশুনানিতে ২৯৫ জন অংশগ্রহণ করেন, যাদের মধ্যে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দা, ৩০টির বেশি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিজ্ঞানী, পরিবেশবাদী সংগঠনের সদস্য, সাংবাদিক এবং বিদেশি পারমাণবিক জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
রসাটমের প্রকৌশল বিভাগের বিশেষজ্ঞরা RITM-200N ও VVER-1000 রিয়্যাক্টরভিত্তিক রুশ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নকশা অংশগ্রহণকারীদের সামনে উপস্থাপন করেন।
উজবেকিস্তানে পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও পরিচালক পাভেল বেজরুকভ জানান, ক্ষুদ্র ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য খননকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ২০২৬ সালে প্রথম কংক্রিট ঢালাইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে বৃহৎ ইউনিটগুলোর নকশা-সংক্রান্ত নথিপত্র প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে। তিনি স্বচ্ছতা এবং জনসম্পৃক্ততার বিষয়ে রসাটমের অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন।
রসাটমের আরেক সহযোগী প্রতিষ্ঠান এতমএনার্গোপ্রয়েক্টের বিশেষজ্ঞরা ক্ষুদ্র ও বৃহৎ উভয় ধরনের পারমাণবিক রিয়্যাক্টর নির্মাণে রাশিয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তারা স্বয়ংক্রিয় সুরক্ষা নীতিমালার ভিত্তিতে একাধীক সুরক্ষা স্তর, সক্রিয় ও স্বক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার সমন্বয়ে গঠিত বহুস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাখ্যা দেন।
গণশুনানিতে পরিবেশ সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় এবং অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রকল্পটির প্রতি সমর্থন ব্যাক্ত করেন তবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণের বিষয়টিকে গুরুত্ব প্রদান করেন।
রসাটম জানায়, ২০২৬ সালে ক্ষুদ্র পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নকশা নিয়ন্ত্রক সংস্থা পর্যালোচনা করবে এবং এরপর নির্মাণ অনুমোদন পাওয়া যাবে।
(এসকেকে/এসপি/জানুয়ারি ২৭, ২০২৬)
