সঞ্জিব দাস, গলাচিপা : দিন যতো ঘনিয়ে আসছে, পটুয়াখালী-৩ আসনে ততই গাঢ় হচ্ছে আতঙ্কের ছায়া। এবার সেই আতঙ্কের কথা আর আড়ালে রাখলেন না বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী ও গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। সরাসরি বললেন, তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। একই সঙ্গে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের দিকেও অভিযোগের আঙুল তোলেন নুর। তাঁর নাম উল্লেখ করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কড়া নজরদারির দাবি জানান তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক আর ভোটারদের অভিমত, পটুয়াখালী- ৩ আসনে এবার লড়াই চারমুখী। যাঁদের মধ্যে লড়াই হবে তাঁরা হলেন জোটপ্রার্থী নুরুল হক নূর, বিএনপির বিদ্রোহী হাসান মামুন, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অধ্যাপক শাহ আলম এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা আবু বকর। ভোটের এই লড়াইয়ে আসনটি শেষ পর্যন্ত কার দখলে যায়, তার আগেই প্রশ্ন উঠছে, ভোটের মাঠ কতটা নিরাপদ নিরাপত্তা নিয়ে নুরের শঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। গতকাল রবিবার (২৫ জানুয়ারি) রাত ১১টা ১০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে নূর দাবি করেন, নির্বাচন বানচালের উদ্দেশ্যে দেশি-বিদেশি অপশক্তি মাঠে নেমেছে। হাজার হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ তাঁর।

নূরের ভাষায়, ‘জাতীয় পর্যায়ের আলোচিত প্রার্থীদের লক্ষ্য করে সহিংসতা ও নাশকতার ছক কষা হচ্ছে। আর এই কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন আসনে প্রার্থীদেরই। এই প্রেক্ষাপটে পটুয়াখালী- ৩ আসনে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়া প্রার্থী হাসান মামুনকে ঘিরে সরাসরি সতর্কবার্তা দেন নুর।

তাঁর অভিযোগ, মামুনকে কেন্দ্র করে এলাকায় বহিরাগতদের আনাগোনা বেড়েছে, তৈরি হচ্ছে পরিকল্পিত অশান্তি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি এখনই কঠোর নজরদারি না বাড়ায়, পরিস্থিতি যে আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে, সেই ইঙ্গিতও দেন তিনি।

নুরের অভিযোগ কেবল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেই সীমাবদ্ধ নয় তিনি জানান, শনিবার রাতে পানপট্টি এলাকায় লিফলেট বিতরণ শেষে ফেরার পথে তাঁর এক কর্মীর ওপর অতর্কিতে হামলা চালানো হয়। রাকিব নামের ওই কর্মীকে মারধরের অভিযোগ রয়েছে। এর আগেও চরকপালভেরা এলাকায় হামলার শিকার হন শ্রমিক অধিকার পরিষদের নেতা রিয়াজ।

নূরের অভিযোগ, রবিবার সন্ধ্যার পর চিকনিকান্দি থেকে ফেরার সময় ডাকুয়া স্লুইজ বাজারে পথরোধ করে কয়েকজন। নিজেদের ‘হাসান মামুনের লোক’ পরিচয় দিয়ে স্লোগান দিতে শুরু করে তারা। উত্তেজনা ছড়ালেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি এড়িয়ে সেখান থেকে সরে আসেন নুরের লোকজন।

এ ব্যাপারে নুরুল হক নুর পটুয়াখালীর সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন ঘিরে পরিকল্পিতভাবে এলাকা অশান্ত করার চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, হাসান মামুনের মাধ্যমে এই তৎপরতা জোরদার হয়েছে। তিনি জেলা পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানিয়ে নির্বাচনী এলাকায় নজরদারি বাড়ানো এবং নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে গত ১৮ জানুয়ারি জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছেও লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।

পটুয়াখালী ও গলাচিপার সাংবাদিকরা এ বিষয়ে মন্তব্য জানার জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মামুনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছেন। কিন্তু তিনি মুঠোফোনে সাড়া দেননি।

পুলিশ সুপার মো. আবু ইউসুফ সাংবাদিকদের বলেন, প্রার্থী নিজেই বিষয়গুলো মুঠোফোনে জানিয়েছিলেন। সেই অভিযোগগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ তারেক হাওলাদার বলেন, নুরের অভিযোগ প্রশাসনের নজরে রয়েছে। যাচাই-বাছাই করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, যুগপৎ আন্দোলনে সমঝোতার অংশ হিসেবে পটুয়াখালী-৩ আসনটি নুরুল হক নুরের জন্য ছেড়ে দেয় বিএনপি। কিন্তু কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিএনপির নির্বাহী সদস্য হাসান মামুন নির্বাচনের মাঠে থাকেন। এর জেরে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। এরপরও নুরের বিরুদ্ধে প্রচারণা ও মামুনের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ ওঠায় গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলা বিএনপির দুটি কমিটিও ভেঙে দেয় দল।

(এসডি/এসপি/জানুয়ারি ২৭, ২০২৬)