রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : হ্যাঁ অর্থ আজাদী, না অর্থ গোলামী। হ্যাঁ ভোট হেরে গেলে বাংলাদেশ হেরে যাবে। ১২ তারিখে আমরা হ্যাঁ ভোট দেব। ২ নং ভোট ইনসাফের প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় দেব। এ ছাড়া ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী দেশে যেখানে আছে সেখানে তাদের প্রতীকে ভোট দিতে হবে। আধিপত্যবাদ, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দাঁড়িপাল্লাকে জয়ী করতে হবে।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে জেলা ১১ দলীয় ঐক্য আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথি আরো বলেন, একটা ছেলের কাছে আমরা গর্বিত। সে বহিবিশে^ বাংলাদেশকে গর্বিত করেছে। তার নাম মুস্তাফিজ। এই ছেলেটাকে পাশর্^বর্তী দেশ ক্রিকেট খেলতে যেতে দিল না। এটা চরম অপমান। বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন,সারা দেশের মধ্যে সবচেয়ে অপরাধ করা হয়েছে সাতক্ষীরায়। একটি সিংগেল জেলায় কোথাও এত বেশি সংখ্যক মানুষকে হত্যা করা হয়নি। আমাদের নেতৃবৃন্দকে খুন করা ও ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। নিবন্ধন বাতিল করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত দিশেহারা হয়ে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের নেতৃবৃন্দকে খুন ও গুমের পাশাপাশি আয়নাঘরে রাখা হয়েছিল। বুলডোজার দিয়ে সাতক্ষীরায় আমাদের নেতৃবৃন্দের বাড়িঘর ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। সাড়ে ১৫ বছর সাতক্ষীরাকে সৎ মায়ের মত আচরণ করা হয়েছে। ৪৮ জন শহীদের রক্তে ভেজা পূণ্যভূমি সাতক্ষীরার চারটি আসন যদি জনগনের সরকার ও ইনসাফ ভিত্তিক শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষে দাঁড়িপাল্লায় দিয়ে বিজয়ী করা হয়, তাহলে এই এলাকার মানুষের উপর আস্থা রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে। কোন সিদ্ধান্ত জনগনের উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে না বলেও তিনি আশ^াস দেন।

আমীরে জামায়াত ডাঃ শফিকুর রহমান সাতক্ষীরাবাসির উদ্দেশ্যে বলেন, রেলপথ এ জেলার মানুষের প্রাণের দাবি। সুন্দরবন টেক্সটাইল মিলকে উজ্জীবিত করে যুব সমাজকে কর্মসংস্থানের সূযোগ করে দেওয়া, চাঁদাবাজ, মাদক সি-িগেট, ব্যবসায়িক সি-িগেট ভেঙে দিয়ে অর্থনৈতিকভাবে এগিয়ে যাওয়ার সর্বাত্মক চেষ্টা করা হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী বিদেশে পাচার হওয়া জনগনের ২৮ লাখ কোটি টাকা উদ্ধার করা হবে। জনগনের সম্পদ লুটকারিদের সাথে কোন ক্ষমা নেই, আপোষ নেই।

প্রতিবেশি রাষ্ট্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিবেশিদের বন্ধু হিসেব দেখা হবে। তবে কাউকে প্রভু হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না।

দ্রব্যমূল্য উর্দ্ধগতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি ও সি-িগেডই এর মূল কারণ। ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজদের দমন করে সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

যুব সমাজ প্রসঙ্গে ডাঃ শফিকুর রহমান বলেন, বেকার ভাতা দিয়ে যুবকদের অপমান করা হবে না। বরং শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদেরকে দক্ষ নাগরিক ও দেশ গড়ার কারিগরে পরিণত করা হবে। মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে রাষ্ট্র। মায়েদের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে বলে জানান তিনি।

বাংলাদেশ জামায়াতের সেক্রেটারী জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার বলেন, একটি দল দাঁড়িপাল্লাকে নিয়ে মিথ্যা, গুজব ও সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছে। একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আহবান জানিয়ে তিনি দাঁগিপাল্লাকে বিজয়ী করে একশ তে একশ পাওয়ার কথা বলেন।

সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমীর উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার, ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি রাশেদ প্রধান, সাতক্ষীরা-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাঃ ইজ্জতুল্লাহ, ২ আসনের প্রাথী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক,-৩ এর প্রার্থী মুহাদ্দিস রবিউল বাসার-৪ এর প্রাথী- গাজী নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান মাদানী, জকসু ভিডি রিয়াজুল ইসলাম, ছাত্রশিবিরের সাতক্ষীরা শহর শাখার সভাপতি আল মামুন ইসলামী ছাত্র শিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র অধিকার বিষয়ক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, জেলা এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন শাকিল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাতক্ষীরার সমন্বায়ক আরাফাত হোসেন প্রমুখ।

(আরকে/এসপি/জানুয়ারি ২৭, ২০২৬)