‘একদিকে ফ্যামিলি কার্ড, অন্যদিকে মা-বোনদের গায়ে হাত’
স্বাধীন মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, যশোর : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, একদিকে নারীদের হাতে ‘ফ্যামেলি কার্ড’ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে, অন্যদিকে ভিন্ন দলের হয়ে রাজপথে নামলে মা-বোনদের লাঞ্ছিত ও মারধর করা হচ্ছে। এটি জাতির জন্য একটি ভয়ংকর বার্তা। ভবিষ্যতে ওই দল ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের একজন মা-বোনও নিরাপদ থাকবে না।
আজ মঙ্গলবার সকালে যশোরের ঐতিহাসিক ঈদগাহ ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমাদের কোনো মা-বোন যদি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করেন, তাহলে আপনারা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করবেন। কিন্তু গায়ে হাত দেওয়ার অধিকার আপনাদের কে দিয়েছে?” তিনি হুঁশিয়ার করে বলেন, মা-বোনদের অপমান জামায়াতে ইসলামী কখনো সহ্য করবে না এবং এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।
জনসভায় জামায়াত আমির বলেন, আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছায় জামায়াতে ইসলামী দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে যশোরকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হবে, ৫০০ শয্যার হাসপাতাল নির্মাণ করা হবে এবং ভবদহ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। তিনি বলেন, এগুলো যশোরবাসীর ন্যায্য অধিকার।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “হ্যাঁ মানে আজাদী, না মানে আবার সেই গোলামী। হ্যাঁ ভোট বিজয়ী হলে বাংলাদেশ বিজয়ী হবে, আর না ভোট বিজয়ী হলে সরকার গঠন করেও কোনো লাভ হবে না।”
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দুর্নীতিমুক্ত, চাঁদাবাজমুক্ত, আধিপত্যবাদমুক্ত ও ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় জামায়াতে ইসলামী। তিনি দাবি করেন, জামায়াত একটি নির্যাতিত ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত দল হলেও কখনো মুদি দোকানি, হকার কিংবা দরিদ্র মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেনি।
চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চাঁদার কারণে কৃষক ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং ভোক্তাদের বাড়তি দাম গুণতে হচ্ছে। জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “মায়েদের ইজ্জতের মূল্য জীবনের চেয়েও বেশি। ঘরে ও বাইরে নারীদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব।” তিনি বলেন, নারীরা নির্ভয়ে পুরুষের পাশাপাশি দেশ গঠনে অবদান রাখতে পারবেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসুল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামসহ বিভিন্ন দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
এর আগে ভোর থেকেই যশোর ও আশপাশের এলাকা থেকে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ঢলে ঈদগাহ ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে। পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়।
(এসএ/এসপি/জানুয়ারি ২৭, ২০২৬)
