‘বাউল সংগীত এখন কঠিন সময় পার করছে’
তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব ও গোপালগঞ্জ-৩ (কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেছেন, বাউল সংগীত হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য গড়ার অন্যতম কারিগর। বাউল সংগীত হলো মানুষের আত্মার গান, প্রাণের গান—যেখানে ধর্ম-বর্ণের কোনো ভেদাভেদ নেই। অতীতের দিনে সমাজে কোনো বিভাজন ছিল না। তখন বাউলরা অবাধে সারা দেশে ঘুরে বেড়াতে পারতেন। যতদিন বাংলার পথে-প্রান্তরে বাউলদের বিচরণ ছিল, ততদিন হিন্দু-মুসলমানের মধ্যে কোনো দ্বন্দ্ব ছিল না।
গতকাল মঙ্গলবার রাতে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার জাঠিয়া বোচাই সাধুর আশ্রমে মহোৎসব উপলক্ষে আয়োজিত বাউল উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের বাউল সংগীতের বর্তমান অবস্থা তুলে ধরে গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, সারা বাংলাদেশে বাউল সংগীত এখন কঠিন সময় পার করছে। বিভিন্ন জায়গায় বাউল গান বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, বাউল শিল্পীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনাও ঘটছে। একজন প্রখ্যাত বাউল শিল্পী এখনো কারাগারে বন্দি রয়েছেন। এসব ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অগ্রহণযোগ্য।
তিনি বলেন, আমরা সারাদেশে বাউল শিল্পীদের জন্য একটি নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ তৈরি করতে চাই। বাউলদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে এবং সংসদে আইন প্রণয়ন করে ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টিকারীদের প্রতিরোধ করা হবে, যাতে তারা আইনের ফাঁক গলে পার না পায়।
জাঠিয়া বোচাই সাধুর আশ্রমের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচিত হলে আমার প্রথম কাজ হবে এই আশ্রমে আসার রাস্তাটি পাকা করা, যাতে ভক্তরা সহজেই এখানে আসতে পারেন। ঐতিহ্যবাহী এই আশ্রমটির সার্বিক উন্নয়ন করা হবে এবং সারা বাংলার বাউল শিল্পীরা যাতে এখানে এসে বড় পরিসরে উৎসব করতে পারেন, সেই ব্যবস্থাও করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এটি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বাংলার উন্নয়নের রূপকার শেখ হাসিনার পুণ্যভূমি। এই এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। পদ্মা সেতু নির্মাণের ফলে এখন ঢাকা থেকে কোটালীপাড়ায় মাত্র দুই ঘণ্টায় আসা সম্ভব হচ্ছে। ঢাকার ভেতরে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যেতে যে সময় লাগে, তার চেয়েও কম সময়ে এখন কোটালীপাড়ায় পৌঁছানো যায়। এসব উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে।
গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক বলেন, আমরা এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চাই এবং জাতির জনকের এই পুণ্যভূমিকে হিন্দু বা মুসলমান সংস্কৃতির সীমাবদ্ধতায় নয়, বরং বাঙালি সংস্কৃতির প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।
উৎসব অনুষ্ঠানে আশ্রম কর্তৃপক্ষ, বাউল শিল্পী এবং সহস্রাধিক ভক্তবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
(টিবি/এসপি/জানুয়ারি ২৮, ২০২৬)
