রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : মুক্তিপণের বিনিময়ে জলদস্যুদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছেন সুন্দরবনে অপহরণকৃত ১৪ জন জেলে। সোমবার রাত থেকে মঙ্গলবারের মধ্যে তারা লোকালয়ে পৌঁছান। তবে মুক্তিপণের টাকা পরিশোধ করতে না পারায় এখনো ৬ জন জেলে জলদস্যুদের কবলে রয়েছেন বলে জানা গেছে। 

বন বিভাগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জানুয়ারি সাতক্ষীরা রেঞ্জের কদমতলা স্টেশন থেকে অনুমতিপত্র (পাস) নিয়ে এসব জেলে সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন। গত ২২ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের মামুন্দো, চুনকুড়ি ও মালঞ্চ নদীসহ কলাগাছিয়া খাল থেকে অস্ত্রের মুখে ২০ জন জেলেকে অপহরণ করে “ডন” বাহিনী নামের জলদস্যুরা।

মুক্তি পাওয়া জেলেরা জানান, অপহরণের পর বিকাশ নম্বর দিয়ে দস্যুরা মুক্তিপণের টাকা দাবি করে। দীর্ঘ আলোচনা ও দরকষাকষির পর নির্ধারিত মুক্তিপণ পরিশোধ করলে জলদস্যুরা জেলেদের ছেড়ে দেয়। তারা জনপ্রতি ২৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ আদায় করেছে। ফিরে আসা জেলেদের মধ্যে আবু তাহের ৩৫ হাজার, আবুল কালাম ৩৫ হাজার, মোঃ ইব্রাহিম ৪০ হাজার, আইয়ুব আলী ২৫ হাজার, দিলীপ ৪০ হাজার, উজ্জল পাড় ৪০ হাজার, সাদেক আক্কাস ৩০ হাজার, ইউসুফ আলী ৪০ হাজার, আশিকুর ২৫ হাজার ও হাফিজুর ২৫ হাজার টাকা করে মুক্তিপণ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তারা আরও জানান, জিম্মি অবস্থায় তারা চরম ভয় ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটিয়েছেন। পর্যাপ্ত খাবার ও বিশ্রামের অভাব ছিল এবং সবসময় আতঙ্কে থাকতে হয়েছে। তবে মুক্তির পর পরিবারের কাছে ফিরে আসতে পেরে তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন।

জেলেদের অভিযোগ, মুন্সিগঞ্জ মৌখালী গ্রামের সফিকুল ওরফে ‘ভেটো সফিকুল’ এবং আটিরউপর গ্রামের শাহাজান এই দস্যু দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এখনো ছয় জন জেলে দস্যুদের জিম্মায় রয়েছেন।

সাতক্ষীরা রেঞ্জের রেঞ্জ সহযোগী ফজলুল হক বলেন, অপহরণের খবর পাওয়ার পরপরই কোস্টগার্ডকে জানানো হয়েছিল। ১৪ জন জেলে ফেরার খবর তাঁরা লোকমুখে জানতে পেরেছেন।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, অপহরণের বিষয়টি আমরা গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে জেনেছি। তবে অপহৃত কোন জেলের পরিবার এখনো পর্যন্ত থানায় লিখিত অভিযোগ করেনি। মুক্তিপণ দিয়ে ফিরেছে কিনা সে বিষয়েও পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কিছু জানায়নি। আমরা বিষয়টা খোঁজ নিয়ে দেখছি।

(আরকে/এসপি/জানুয়ারি ২৮, ২০২৬)