‘আমি জেলারের পায়ে ধরে মুক্তি চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি দেননি’
স্বাধীন মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ, যশোর : অবশেষে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের বাগেরহাট সদর উপজেলার সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দাম কারামুক্ত হয়েছেন। বুধবার দুপুর ২টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তিনি জামিনে মুক্তি পান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ভারপ্রাপ্ত সিনিয়র জেল সুপার (সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট) মো. আসিফ উদ্দিন।
কারামুক্তির পরপরই সাদ্দাম পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যশোর ত্যাগ করে বাগেরহাটের উদ্দেশে রওনা দেন। মুক্তির পর মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, “আমার স্ত্রী ও সন্তানের কবরের কাছে যেতে মন ছটপট করছে। মনটা খুব কাঁদছে।” তিনি জানান, সেই উদ্দেশ্যেই তিনি বাগেরহাটে যাচ্ছেন।
কারামুক্ত হয়ে সাদ্দাম যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার প্রত্যেক হাজতির দিয়ে কাজ করান, যা আইনবহির্ভূত। পাশাপাশি তিনি মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও তোলেন। তার দাবি, এসব মানসিক চাপের ফলেই সম্প্রতি কারাগারে এক বন্দি আত্মহত্যা করেছেন। অপর একজন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি নিজেও কারাবন্দি অবস্থায় প্রচণ্ড মানসিক কষ্টে ছিলেন বলে দাবি করেন। এছাড়া বাগেরহাট জেলা কারাগারের জেলার নিয়েও নানা সমালোচনা করেন তিনি।
সাদ্দাম বলেন, “আমি জেলারের পায়ে ধরে মুক্তি চেয়েছিলাম, কিন্তু তিনি দেননি। আমার জামিন হওয়ার পরও ঘণ্টার পর ঘণ্টা কারাগারে আটকে রাখা হতো।”
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি তো বড় কোনো নেতা নই। আমি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলাম। আমি কোনো দখলবাজি বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলাম না। এ দায়ভার কে নেবে?”—বলে প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি।
সূত্র জানায়, সাদ্দামকে ২০২৫ সালের ৫ এপ্রিল সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় প্রথম গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় জামিন পাওয়ার পরপরই একের পর এক নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রতিবারই জামিনের আদেশ কারাগারে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে নতুন মামলায় তাকে আটক দেখানো হয়। এভাবে মোট ছয়টি মামলায় তিনি জামিন লাভ করেন।
গত ১৫ ডিসেম্বর তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। সর্বশেষ গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আরেকটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় তিনি যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আটক ছিলেন।
কারাবন্দি অবস্থায় সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ স্বর্ণালী নয় মাসের শিশুসন্তান সেজাদ হাসান নাজিফকে হত্যা করে আত্মহত্যা করেন। যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। ঘটনার পর প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হলেও তিনি মুক্তি পাননি। মৃত্যুর পরদিন ২৪ জানুয়ারি স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে আনা হয়। ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জেলগেটের ভেতরে পাঁচ মিনিটের জন্য সাদ্দামকে মরদেহ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে হাইকোর্ট গত ২৬ জানুয়ারি তার ছয় মাসের জামিন মঞ্জুর করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার দুপুর ২টায় তিনি কারামুক্ত হন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহমেদের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
(এসএমএ/এএস/জানুয়ারি ২৯, ২০২৬)
