কুড়িগ্রামে ইরি-বোরো চাষাবাদে ব্যস্ত সময় পার করছে কৃষক-কৃষাণীরা
প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রামের ৯ টি উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় ইরি-বোরো ধান চাষাবাদ পুরোদমে শুরু হয়েছে। তাই চাষাবাদের জমি প্রস্তুত ও ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত চারা রোপনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে খামারবাড়ি কুড়িগ্রামের উপ পরিচালক কৃষিবিদ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন। ইরি-বোরো ধানের চারা লাগানোর জন্য ট্রাক্টর দিয়ে হাল চাষ করে জমি উর্ব্বর করে নিচ্ছেন। আবার কোথাও কোথাও মহিষ, গরু ও ঘোড়ার হাল দিয়ে আবার কেউ কেউ নিজেই মইয়ে গাছের গুড়ি ফেলে দিয়ে মই টেনে কদমাক্ত জমি সমান করে চারা রোপনের জন্য প্রস্তুত করছেন কৃষক-কৃষাণীরা। সব মিলে এ মৌসুমে কোন কৃষক-কৃষাণী ঘরে বসে থাকেন না। মাঠেই ব্যস্ত সময় পাড় করেন।
উপ পরিচালক জানান, এবার জেলার ৯টি উপজেলায় ১লাখ ১৭ হাজার ৩’শ ৬৫ হেক্টর জমিতে ইরি বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই চাষাবাদের জন্য জমি প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছে কৃষকরা। অনেক জায়গায় বিভিন্ন জাতের ইরি বোরো ধানের চারা রোপণও শুরু হয়েছে। জানুয়ারী মাসের শেষের দিকে এ চাষাবাদ পুরোদমে শুরু হয় বলে জানায় চাকিরপশারতালুক গ্রামের কৃষক সোলায়মান আলী, পাঠক গ্রামের জাকির হোসেন, মানিক মিয়া, রতিরাম কমলও ঝাঁ গ্রামের স্বর্ণকমল মিশ্র, অর্জূণ মিশ্র গ্রামের দুলাল কার্জ্জী।
কয়েকজন কৃষক বলেন, ইরি বোরো চাষাবাদে জমি প্রস্তুতে ট্রাক্টর দিয়ে হালচাষ শুরু হয়েছে। আবার অনেক জমিতে ইরি -বোরো চারা রোপন করতে সেচের পানি দিয়ে হাল চাষ করে সমান করতে মহিষ, গরু ও ঘোড়া দিয়ে মই টানা হচ্ছে। আবার অনেক স্থানে চারা লাগানো শুরু হয়েছে। বিশেষ করে জমি থেকে সরিষা উত্তোলনের পরও ইরি বোরো ধানের চারা লাগানো হবে।
কয়েকদিন আগে প্রচন্ড শীত ও ঘন কুয়াশায় ইরি-বোরো বীজতলা কিছুটা বিনষ্ট হয়েছে। তবে এখনও হাট-বাজারগুলোতে ধানের চারা ওঠেনি এবং বিভিন্ন জাতের ধানের চারা কিছুটা সঙ্কট ও মূল্য বৃদ্ধি হতে পারে। ইতোমধ্যেই কৃষি শ্রমিক, জমিতে হাল চাষ, সার ও পানি সেচসহ খরচের হারও কিছুটা বাড়তে শুরু করছে। এবার খরচ বেশির আশঙ্কা থাকলেও এ লাভজনক চাষাবাদে কৃষকরা ঝুঁকে পড়ছে।
কৃষকরা এবারে সার তেল ও সেচের খরচ কমানোর জন্য সরকারের আঁশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে খামারবাড়ি কুড়িগ্রাামের উপপরিচালক মো, আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রতিবছরের ন্যায় ইতোমধ্যেই জেলার বিভিন্ন স্থানে ইরি বোরো চাষাবাদে জমি প্রস্তুত ও ধানের চারা লাগানো শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই ৩০হাজার ৬’শ ৯০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের ধানের চারা লাগানো হয়েছে। আলু আবাদ ঘরে তোলার পর আগামী মার্চ মাসের মাঝামাঝি পর্যন্ত চারা রোপনের কাজ চলবে। অধিক ফলনের জন্য সংশ্লিষ্ট কৃষি বিভাগ কৃষকদের পরামর্শ দিয়ে আসছে।
(পিএস/এসপি/জানুয়ারি ২৯, ২০২৬)
