রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : এক কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ ও ধর্ষণের ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার মামলায় গ্রেপ্তারকৃত আসামি দেবাশীষ মন্ডল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সে সাতক্ষীরার জ্যেষ্ট বিচারিক হাকিম তমিনা মন্ডলের কাছে এ জবানবন্দি দেয়। দেবাশীষ মন্ডল সাতক্ষীরা সদরের কুলতিয়া গ্রামের ভোলানাথ মন্ডলের ছেলে। এদিকে মামলা করায় আসামী হৃদয় ঘোষের বাবা জগবন্ধু ঘোষ মামলার বাদিকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সাতক্ষীরা সদরের ব্রহ্মরাজপুর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক সোহরাব হোসেন জানান, বুধবার বিকেলে দেবাষীষ মন্ডলকে সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে সে ওই কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণের পর তাকে ব্লাক মেইল করতে ভিডিও ধারণ করে বলে জানায়। পরবতীতে তার কথা না শোনায় তার দুই বন্ধুকে দিয়ে হুমকি ধামকি দেয়। একপর্যায়ে ওই কলেজ ছাত্রীকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ায় রাজী না হওয়ায় ফেইসবুকে ভিডিও ছড়িয়ে দেয়। জবানবন্দি শেষে দেবাশীষকে জেলাকারাগারে পাঠানো হয়।

প্রসঙ্গত, মালয়েশিয়া প্রবাসী এক ব্যক্তির স্ত্রী ছেলেকে নিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে থাকার সূযোগে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুলতিয়া গ্রামের ভোলা নাথ মন্ডলের ছেলে দেবাশীষ মন্ডল ওই ছাত্রীর ঘরে ঢুকে কথা বলার একপর্যায়ে ধর্ষণ করে। ধর্ষণে বাধা দেওয়ায় ওই ছাত্রীকে কামড় দিয়ে জখম করে। ধর্ষণের দৃশ্য ভিডিও ধারণ করে তা ব্লাক মেইল করতে ব্যবহার করে। একপর্যায়ে দেবাষীশের ফোন রিসিভ না করায় তার দুই বন্ধু হৃদয় ঘোষ ও হাবিবকে দিয়ে রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে যায়। নিরুপায় হয়ে ওই ছাত্রী বিষয়টি তার মা ও বাবাকে জানায়। মা ও বাবা সন্তানকে তার মামার বাড়িতে নিয়ে রাখেন। সম্প্রতি ধর্ষণের ওই ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয় দেবাশীষ। বুধবার তাকে বিকেলে গ্রেপ্তার করা হলেও রাত ১০টা ৪১ মিনিটে সাইফুল ইসলাম নামে এক ফেসবুক আইডি থেকে ওই ভিডিও আবারো পোষ্ট করা হয়।

(আরকে/এসপি/জানুয়ারি ২৯, ২০২৬)