আশাশুনিতে সেনা সদস্যদের প্রহারে তরুণের মৃত্যুর অভিযোগ
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার আশাশুনিতে সেনাসদস্যদের প্রহারে ইসমাইল সানা (২২) নামের এক ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালকেট মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবার। এছাড়া এ ঘটনায় আহত হয়েছে তার সহযাত্রী ২ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে এঘটনা ঘটে। অপরদিকে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, মোটরসাইকেল চেকিংয়ের কোন ঘটনায় সেখানে ঘটেনি।
ইসমাইল সানা আশাশুনির জেলিয়াখালির বানারাসিপুর গ্রামের মহিরুদ্দীন সানার ছেলে। আর আহতরা হলেন, ইসমাইলের চাচাতো ভাই আব্দুর রাকিব (২৩) ও একই গ্রামের মৃত মুনসুর রহমানের ছেলে মঞ্জুরুল সানা (২৫)।
মহিরুদ্দীন সানা জানান, মায়ের জন্য ওষুধ আনতে তার ছেলে প্রতিবেশী বন্ধুদের সাথে নিয়ে কাপসান্ডা বাজারে যায়। সেখান থেকে বাড়িতে আসার পথে সেনাবাহিনীর দু’টো টহল গাড়ীর সামনে পড়ে তারা। এসময় তাদের থামতে বলা হয়। বাইক থামালে গাড়ী থেকে সেনাসদস্যরা নেমে ইসমাইলকে বেধড়ক পেটাতে থাকে। এতে সে মারা যায়।
আহত মঞ্জুরুল সানা জানান, তারা তিনজন বাইকে ওষুধ নিয়ে বাড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় আশাশুনিগামী সেনাবাহিনীর দুটো গাড়ী কাকবাসিয়া বাজার এলাকায় তাদের সামনে পড়ে যায়। সেনাবাহিনীর সদস্যরা থামতে বললে চালক ইসমাইল সানা বাইক থামায়। এসময় হেলমেট পরে না থাকার কারণে ইসমাইল সানাসহ তাদেরকে মারপিট করে সেনাসদস্যরা। এতে ইসমাইল পাশের একটি গর্তে পড়ে যায়। পরে সেনাসদস্যরা চলে গেলে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় গ্রাম্য চিকিৎসক পলাশ আহমেদের কাছে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। ইসমাইলের মরদেহ রাতেই আনুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুছের সহায়তায় পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠায়।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শামীম আহমেদ জানান,কাকবাসিয়া বাজার থেকে ইসমাইলের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা ৩৭ বীরের অধিনায়ক লে. কর্নেল নাভিদ হাসান সাংবাদিকদের জানান, যান তল্লাশি বা মোটরসাইকেলের কাগজপত্রাদি বা হেলমেটের যাচাইকরণের বিষয়টি সেনাসদস্যরা পুলিশের উপস্থিতিতে করে থাকে। কাকবাসিয়া এলাকায় এ ধরণের তল্লাশি কার্যক্রমের বিষয়টি তার জানা নেই।
(আরকে/এসপি/জানুয়ারি ৩০, ২০২৬)
