ওয়াজেদুর রহমান কনক, নীলফামারী : নীলফামারী প্রেসক্লাবের উদ্যোগে প্রয়াত সাংবাদিকদের স্মরণে এক আবেগঘন স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ শনিবার জেলা শহরের বিডি হল প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নীলফামারীতে বিভিন্ন সময়ে দায়িত্ব পালন করা প্রয়াত সাংবাদিকদের অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

স্মরণ সভা ঘিরে পুরো প্রাঙ্গণে ছিল সংযত, গাম্ভীর্যপূর্ণ ও মর্যাদাময় পরিবেশ। সহকর্মী সাংবাদিক, শুভানুধ্যায়ী, সামাজিক ব্যক্তিত্ব এবং প্রয়াত সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি তাৎপর্যমণ্ডিত হয়ে ওঠে।

প্রয়াত সাংবাদিকদের কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক, পেশাগত সংগ্রাম, স্থানীয় সাংবাদিকতায় অবদান এবং গণমানুষের পক্ষে অবস্থানের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়। আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, নীলফামারীর গণমাধ্যম বিকাশের ইতিহাসে প্রয়াত সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও তাঁরা দায়িত্বশীল ও নীতিনিষ্ঠ সাংবাদিকতার চর্চা করে গেছেন, যা বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

স্মরণ সভায় আমন্ত্রিত অতিথিরা প্রয়াত সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন। মোট ১৩ জন প্রয়াত সাংবাদিকের পরিবারের কাছে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়। সম্মাননা স্মারক তুলে দেন নীলফামারী জেলা প্রশাসক নায়িরুজ্জামান এবং পুলিশ সুপার কাজি জাহেদুল ইসলাম পিপিএম। এ সময় তাঁরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং প্রয়াত সাংবাদিকদের অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।

অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, সমাজে সত্য, ন্যায় ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। যারা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আজ আর আমাদের মাঝে নেই, তাঁদের স্মরণ করা শুধু সম্মানের নয়, প্রজন্মকে দায়িত্ববোধ শেখানোরও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।

নীলফামারী প্রেসক্লাবের সভাপতি এবিএম মঞ্জুরুল আমল সিয়ামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণসভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নূর আলম। তিনি বলেন, প্রয়াত সহকর্মীদের স্মৃতি সংরক্ষণ, তাঁদের অবদান তুলে ধরা এবং পরিবারের সদস্যদের পাশে দাঁড়ানো প্রেসক্লাবের নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্বের অংশ। তিনি ভবিষ্যতেও এ ধরনের স্মরণমূলক আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ও জ্যেষ্ঠ সদস্যরা প্রয়াতদের কর্মময় জীবনের নানা স্মৃতি তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, সাংবাদিকতা কেবল পেশা নয়, এটি সমাজের প্রতি এক গভীর দায়বদ্ধতার নাম। সেই দায়বদ্ধতা পালনে প্রয়াত সাংবাদিকরা যে সততা, সাহস ও নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন, তা নীলফামারীর সাংবাদিক সমাজ চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। অনুষ্ঠান শেষে অতিথি, সাংবাদিক ও পরিবারের সদস্যদের অংশগ্রহণে এক আন্তরিক মতবিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।

(ওকে/এসপি/জানুয়ারি ৩১, ২০২৬)