রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরা সদরের আখড়াখোলা গ্রামের প্লে শ্রেণীর পড়ুয়া সেহজাদ হোসেন রিয়ানকে  নির্যাতন করে হত্যার পর লাশ পানিতে ফেলে গুম করার চেষ্টার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় গ্রেপ্তারকৃত মোঃ আহাদুজ্জামানকে(১৮) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। সাতক্ষীরার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস মন্ডল মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা পাঁচ দিনের রিমাণ্ড আবেদন শুনানী শেষে এ আদেশ দেন।

রিমাণ্ড মঞ্জুর হওয়া আহাদুজ্জামান সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের বাউলডাঙা (মুচড়া) গ্রামের মোঃ রফিকুল ইসলামের ছেলে। সে বর্তমানে মুকুন্দপুর গ্রামে তার নানার বাড়িতে থাকে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আখড়াখোলা গ্রামের শিক্ষক শাহাদাৎ হোসেন জানান, গত ২৫ জানুয়ারি তার ছেলে সেহজাদ হোসেন রিয়ানের লাশ উদ্ধারের পর রাতেই তিনি বাদি হয়ে কারো নাম উল্লেখ না করে হত্যা ও লাশ গুমের চেষ্টার অভিযোগে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ২৭ জানুয়ারি সকালে আহাদুজ্জামানকে সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে রাজনগর বাজার থেকে গ্রেপ্তার করেন মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক সুশান্ত কুমার ঘোষ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পরদিন আদালতে পাঁচ দিনের রিমাণ্ড আবেদন জানানো তিনি। রবিবার শুনানীকালে তিনি (শাহাদাৎ) আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

সাতক্ষীরা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাড. শফিউর রহমান জানান, রিমাণ্ড শুনানিকালে মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক সুশান্ত ঘোষ এজাহারে নাম না থাকা আহাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার সংক্রান্ত সিডি না থাকায় তার দায়িত্বের বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারক বিলাস মন্ডল। একপর্যায়ে আহাদুজ্জামানকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এক দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক সুশান্ত কুমার ঘোষ জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ি আসামী আহাদুজ্জামানকে কারাগার থেকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে আসা হবে।

আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাড. আব্দুল মজিদ (২) ও অ্যাড. নির্মলেন্দু জোয়ারদার।

প্রসঙ্গত, আখড়াখোলা গ্রামের শাহাদাৎ হোসেনের ছেলে আলহ্বাজ্ব সোয়েব হোসেন প্রিক্যাডেট স্কুলে প্লে শ্রেণীর পড়ুয়া সেহজাদ হোসেন রিয়ান গত ২৩ জানুয়ারি বিকেলে তার নানা মুকুন্দপুর গ্রামের মতিয়ার রহমানের বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয়। রবিবার সকালে তার মামা মেহেদী হাসানের মাছের ঘের থেকে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।

(আরকে/এসপি/ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬)