আওয়ামী লীগের ভোট টানতে মরিয়া প্রার্থীরা
হাবিবুর রহমান, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহের চারটি সংসদীয় আসনে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা জমে উঠেছে। নিজেদের পক্ষে ভোট টানতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন। দিচ্ছেন উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি। বিশেষ করে আওয়ামী ভোটারদের সমর্থন পেতে অধিকাংশ প্রার্থী সরব হয়েছেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ নেতাকর্মীদের জুলুম করা যাবে না বলে বিভিন্ন সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন তাঁরা। তাদের হয়রানি না করতেও হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এই সরকারের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেছেন। নির্বাচনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নের মুখে পড়বে বলেও অনেকে দাবি করেছেন।
জানা গেছে, ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবেক অ্যার্টনি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচন করছেন। সম্প্রতি তাঁর নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী ভোটারদের সমর্থন পেতে প্রকাশ্যে দলটির পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন।
নির্বাচনী সভায় মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আওয়ামী লীগে যেমন খুনি আছে, তেমনি অনেক আর্দশিক সৈনিক আছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থাণের পর আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার জন্য জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে রিট পিটিশন দায়ের করা হয়েছিল। আমি তখন অ্যাটর্নি জেনারেল ছিলাম, তখন সেটা আমি হতে দেইনি।’
ঝিনাইদহ-৪ (কালীগঞ্জ ও সদরের আংশিক) আসনে বিএনপির প্রার্থী গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন ধানের শীষ প্রতিকে নির্বাচন করছেন। তিনিও নির্বাচনি প্রচারে কৌশলে আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটারদের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি বিভিন্ন সভা-সমাবেশে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নিরীহ ও সাধারণ কাউকে যেন জুলুম করা না হয়, অত্যাচার না করা হয় এ কথা বকারবার বলছেন। চব্বিশের ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও প্রকাশ্যে কথা বলছেন তিনি।
এছাড়া নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থীরাও আওয়ামী লীগের ভোট টানতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। দলটির নেতাকর্মীরা আওয়ামী ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের কথা বলছেন।
অপরদিকে ঝিনাইদহ-২ ও ঝিনাইদহ-৪ আসনের প্রার্থী ও তাদের কর্মীসমর্থকেরা আওয়ামী ভোটারদের কাছে টানতে নানা কৌশল চালিয়ে যাচ্ছেন।
জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় এবারের সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কার্যত নির্বাচনী মাঠে নেই। ঝিনাইদহের সবকয়টি আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের মধ্যে। এ কারণে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীরা কৌশলে আওয়ামী লীগের ভোটার টানার চেষ্টা করতে দেখা যাচ্ছে। কোনো কোনো প্রার্থী আওয়ামী লীগ-সমর্থিত ভোটারদের নিরাপদে রাখার আশ্বাস দিচ্ছেন। আবার কেউ কেউ ভোট না দিলে নানা ধরণের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এটি ভোটের রাজনীতির একটি অংশ হয়ে উঠেছে। তবে আওয়ামী লীগের ভোট কোন প্রার্থীরা পাবে সেটা এখনই বলা যাচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, ‘ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপির নেতা-কর্মীরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মী ও সমর্থকদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা একে অপরের পোস্টার ছিড়ে ফেলছে। অনেককে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, যা নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নষ্ট করছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নজরদারি আরো বাড়াতে হবে।’
ঝিনাইদহের চারটি সংসদীয় আসনে মোট ২১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। এবারের নির্বাচনে জেলার চারটি আসনে ১৫ লাখ ৯৬ হাজার ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে নারী ভোটার ৮ লাখ ৯৫ হাজার ৯৮৪ জন, পুরুষ ভোটার ৮ লাখ ৩৯০ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ২৯ জন।
(এইচআর/এসপি/ফেব্রুয়ারি ০১, ২০২৬)
