স্পোর্টস ডেস্ক : ভুটানকে বিধ্বস্ত করার পর এবার আরও বড় পরীক্ষায় নামল বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সোমবার শক্ত প্রতিপক্ষ ভারতের বিপক্ষে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে ২-০ গোলের জয় তুলে নিয়েছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা। নেপালের পোখরায় অর্পিতা বিশ্বাস ও আলপি আক্তারের গোলে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট পেয়ে ফাইনালের আরও কাছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

২ ম্যাচ শেষে ৬ পয়েন্ট ও ১৪ গোল ব্যবধান নিয়ে বাংলাদেশ সবার উপরে।
ভারত আগের ম্যাচে নেপালকে হারিয়ে তিন পয়েন্ট ও -১ গোল ব্যবধান নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে। নেপাল ও ভুটান দুই ম্যাচই হারায় তাদের পয়েন্ট শূন্য। আজ নেপাল ও ভূটানের ম্যাচ ড্র হলে এক ম্যাচ হাতে রেখেই বাংলাদেশ ফাইনাল নিশ্চিত করবে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ভারত। প্রথম দশ মিনিটেই কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে তারা। পঞ্চম মিনিটে ভারতের ফরোয়ার্ডের নেওয়া শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। এক মিনিট পর উড়ন্ত বল থেকে হেড নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন পার্ল ফার্নান্দেজ, তবে সঠিক সংযোগ না পাওয়ায় রক্ষা পায় বাংলাদেশ।

শুরুর ধাক্কা সামলে ধীরে ধীরে নিজেদের খেলায় ফিরতে থাকে বাংলাদেশ।
বাঁ দিক দিয়ে একের পর এক আক্রমণে সক্রিয় ছিলেন মামনি চাকমা। তার গতিময় উপস্থিতিতেই ভাঙে ম্যাচের ভারসাম্য। ২৯ মিনিটে পাওয়া একটি ফ্রি কিক থেকে বল সরাসরি গোলমুখে পাঠান মামনি। ভারতের গোলকিপার বল প্রতিহত করার চেষ্টা করলেও বল হাত ফসকে পড়ে যায় সামনে, সুযোগ কাজে লাগিয়ে কাছ থেকে জালে ঠেলে দেন অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাস।

গোলের পর ম্যাচে গতি বাড়ে বাংলাদেশের। ৩৭ মিনিটে কোচ পিটার বাটলার কৌশলগত পরিবর্তন এনে মাঠে নামান বন্যা খাতুন ও শান্তি মার্ডিকে। এই পরিবর্তনের প্রভাব আসে দ্রুতই। ৪০ মিনিটে ডান দিক থেকে তৃষ্ণা রানীর নিখুঁত ক্রস পেয়ে গোলমুখে দারুণ টাচে ব্যবধান বাড়ান আলপি আক্তার। প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেদ করে তার এই ফিনিশে ২-০ গোলে এগিয়ে যায় বাংলাদেশ।

এর কিছুক্ষণ পরই নিজের দ্বিতীয় গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন আলপি। পুজা দাসের লং বল নিয়ন্ত্রণে এনে গোলকিপারকে ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করলেও শটটি গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। বিরতির আগে ভারতের শেষ মুহূর্তের একটি শট দারুণ দক্ষতায় ঠেকান গোলরক্ষক ইয়ারজান বেগম।

বিরতির পর ব্যবধান কমাতে মরিয়া হয়ে ওঠে ভারত। ৪৯ মিনিটে তাদের অধিনায়কের ভলি শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। তবে বাংলাদেশও সুযোগ তৈরি করতে থাকে পাল্টা আক্রমণে। ৫৬ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বল কেড়ে নিয়ে বক্সের সামনে জোরালো শট নেন মুনকি আক্তার, কিন্তু ভারতের গোলকিপার মুন্নির দুর্দান্ত সেভে ব্যবধান আর বাড়েনি।

ম্যাচের শেষ ভাগে ভারত চাপ বাড়ালেও বাংলাদেশের রক্ষণ ছিল দৃঢ়। ৭০ মিনিটে জয়নব বিবির সময়োচিত ক্লিয়ারেন্স নিশ্চিত করে জয়। শেষ পর্যন্ত দুই গোলের লিড ধরে রেখে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী দল।

(ওএস/এএস/ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬)