টুঙ্গিপাড়ায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থীর প্রচারণায় বাধার অভিযোগ বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে
তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : গোপালগঞ্জ- ৩ আসনের (টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া) ১১ দলীয় জোট ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আব্দুল আজিজ মাক্কীর নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা, ভয়ভীতি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির বিরুদ্ধে।
আজ সোমবার সকালে গোপালগঞ্জের ঘোনাপাড়ায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন আব্দুল আজিজ মাক্কী।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে নেতাকর্মীদের নিয়ে টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কুশলী ইউনিয়নের নিলফা ও খালেক বাজার এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় গেলে বিএনপির প্রার্থী এসএম জিলানীর কর্মী-সমর্থকরা সেখানে বাধা দেন। তাঁর অভিযোগ, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোক্তার মোল্লা ও তার ভাই মিরাজ মোল্লার নেতৃত্বে তাঁদের প্রচারণায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়।
এ সময় উত্তেজনাকর "জামাত শিবির রাজাকার এই মুহুর্তে বাংলা ছাড়" বলে স্লোগান দেওয়া হয়, যা পরিস্থিতিকে অস্থির করে তোলে। জামায়েত ইসলামী যখন বিএনপির সাথে ছিলো তখনতো রাজাকার ছিলো না, এখন যখন শুধুমাত্র নির্বাচনের জন্য ১১ দলের জোটে আসছে তখন রাজাকার হয়ে গেলো?
আব্দুল আজিজ বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের আচরণে আমাদের নেতাকর্মীরা সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হন। আমি তাৎক্ষণিকভাবে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও টুঙ্গিপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানাই। পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে যায়। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না বলে আশ্বাস দেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, আমরা নির্বাচনে সমান সুযোগ (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) চাই। বর্তমান পরিস্থিতিতে নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরপেক্ষ ভূমিকা কামনা করেন।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোক্তার মোল্লা বলেন, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী বা তাঁর সমর্থকদের প্রচারণায় বাধা দেওয়া হয়নি। তিনি দাবি করেন, জামায়াতের আমিরের ফেসবুকে মহিলাদের নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদে ছেলেপেলেরা স্লোগান দিয়েছেন, তবে কাউকে প্রচারনায় বাধা দেওয়া হয়নি।
টুঙ্গিপাড়া সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জহিরুল আলম বলেন, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী সকালে মুঠোফোনে বিষয়টি জানানোর পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছিলাম। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, দুই পক্ষের মধ্যে একটু বাকবিতণ্ডা হয়েছে। তারপরও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
(টিবি/এসপি/ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬)
