পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় জলাভূমি সুরক্ষার অঙ্গীকার সাতক্ষীরা উপকূলবাসীর
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : “জলাভূমি ও প্রথাগত জ্ঞান: সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য উদ্যাপন” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জলাভূমি সুরক্ষার অঙ্গীকারের মধ্যদিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে পালিত হয়েছে বিশ্ব জলাভূমি দিবস ২০২৬।
আজ সোমবার সকালে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার মুন্সিগঞ্জের চুনকুড়ি নদীর পাড়ে দিবসটি উপলক্ষ্যে র্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা জলাভূমি, নদী, খাল-বিল ও প্রাকৃতিক জলাশয় রক্ষার দাবিতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন প্রদর্শন করেন।
মুন্সিগঞ্জ গ্রীন কোয়ালিশনের সভাপতি ডা. যোগেশ মন্ডল এর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন ঈশ্বরীপুর গ্রীন কোয়ালিশনের সভাপতি এম. জিল্লুর রহমান, সুন্দরবন প্রেসক্লাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাহফুজুর রহমান তালেব, মথুরাপুর কৃষিপ্রতিবেশবিদ্যা শিখন কেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক সরমা রানী, কৃষক নিমাই মন্ডল এবং সুন্দরবন ইয়ুথ সলিডারিটি টিম বুড়িগোয়ালিনী ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক সবুজ বিল্লাহ, বারসিকের সহযোগী আঞ্চলিক সমন্বয়কারী রামকৃষ্ণ জোয়ারদার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের জীবন-জীবিকা, খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় জলাভূমি অপরিহার্য। প্রথাগত জ্ঞান ও স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জলাভূমি সংরক্ষণে সম্মিলিত উদ্যোগ নিতে হবে। নদী, খাল-বিল ও জলাভূমি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। এগুলো ধ্বংস হলে শুধু পরিবেশ নয়, উপকূলবাসীর অস্তিত্বও হুমকির মুখে পড়বে। তাই স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করেই জলাভূমি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
এছাড়াও তারা বলেন, উপকূলীয় জলাভূমি প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে। প্রথাগত জ্ঞান ও কৃষকের অভিজ্ঞতা জলাভূমি ব্যবস্থাপনায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, যা আমাদের নতুন করে মূল্যায়ন করা জরুরি। নদী ও প্রাকৃতিক জলাশয় দখল ও দূষণের ফলে জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। খাল-বিল ও জলাভূমি রক্ষা মানেই কৃষি, মৎস্য ও জীবিকার সুরক্ষা। সুন্দরবন ও উপকূলীয় নদীগুলো আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক। গণমাধ্যমের পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের সচেতন অংশগ্রহণ ছাড়া এসব প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা সম্ভব নয়। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নদী ও জলাশয় রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
এদিকে দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে সোমবার সকালে সাতক্ষীরা শহরের পাকাপোলের পাশে প্রাণসায়ের খালের তীরে এক মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য দেন মানবাধিকার কর্মী মাধব চন্দ্র দত্ত, সাংবাদিক শরিফুল্লাহ কায়সার সুমন, নজরুল ইসলাম, আফজাল হোসেন প্রমুখ।
(আরকে/এসপি/ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৬)
