স্টাফ রিপোর্টার : স্থানীয় প্রশাসনের হেলিকপ্টার চাওয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, বিভিন্ন যে দুর্ঘটনাগুলো ঘটে, সেই সমস্যাগুলোর সমাধান হেলিকপ্টার করতে পারবে না। এগুলোর সমাধান করতে পারবো আমরা ও আপনারা সবাই মিলে। আমরা সবাইকে যদি সচেতন করি এবং যার যার দায়িত্ব যদি ঠিকমতো পালন করি, তবে কোনো অঘটন ঘটবে না। এছাড়া রাজনৈতিক নেতা ও তার কর্মীরা যদি ঠিকমতো কাজ করেন, তাহলে কোনো সমস্যা হবে না, কিন্তু হেলিকপ্টার এসে কোনো সমস্যার সমাধান করে দিতে পারবে না।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) বরিশাল শিল্পকলা অ্যাকাডেমি মিলনায়তনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে সর্বোচ্চ ফোর্স দেওয়া হয়েছে। আর এখানে নদীনালা ও খালবিল প্রচুর থাকায় কোস্টগার্ড এবং নেভির সংখ্যা অনেক বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ও মালামাল পরিবহনের জন্য স্পিডবোট এবং অন্যান্য যানবাহন বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসন একপাক্ষিক আচরণ করছে—প্রার্থীদের এমন অভিযোগের বিষয়ে উপদেষ্টা বলেন, প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ করছে, এটা সবাই দেখছে।

কিন্তু যার যার বক্তব্য, সেটা তো সে দেবেই। পলিটিক্যাল বক্তব্য একেকজন একেকভাবে দেবেন, কিন্তু তার তো ভোট টানতে হবে, আর এজন্য তাদের বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করতে হয়। এটা তাদের সেই কৌশলও হতে পারে। কিন্তু আমরা এবং আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সবাই নিরপেক্ষভাবে কাজ করবে—এতে কোনো সন্দেহ নেই।

তিনি বলেন, বরিশালের মতবিনিময় সভায় নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সবার বক্তব্য শোনা হয়েছে। এখানে নির্বাচন নিয়ে সবার প্রস্তুতি বেশ ভালো। নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর হয়, সেজন্য সবাই ভালোভাবে প্রস্তুত।

উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচন যাতে শান্তিপূর্ণ হয় সে লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
প্রত্যেককে নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করলে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারা দেশে এক লাখ সেনাবাহিনী, দেড় লাখ পুলিশ, ৫ হাজার নেভি, ৩৭ হাজার বিজিবি, ১০ হাজার র‍্যাব, প্রায় ৫ হাজার কোস্ট গার্ড এবং প্রায় ৬ লাখ আনসার মোতায়েন করা হচ্ছে। উপকূলীয় এলাকায় কোস্ট গার্ড এবং নেভির সংখ্যা আগের থেকে বাড়ানো হয়েছে। এবার নির্বাচনে বিএনসিসিও নিয়োগ করা হচ্ছে। পাশাপাশি এবার বডি ক্যামেরা রাখা হয়েছে। এছাড়া সিসি ক্যামেরা এবং ড্রোন ব্যবহার করা হবে বলেও জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। এছাড়া ডগ স্কোয়াড এবং নিরাপত্তা অ্যাপও ব্যবহার করা হবে।

মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি, বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

(ওএস/এএস/ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬)