স্পোর্টস ডেস্ক : আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে তৈরি হওয়া অস্থিরতার জন্য ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিসিআই) দায়ী করেছেন আইসিসির সাবেক মিডিয়া প্রধান সামিউল হাসান বার্নি। 

তার মতে, বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি বিসিসিআই আরও বিচক্ষণতার সঙ্গে সামলাতে পারতো। বিসিসিআই’র ‘কৌশলী’ অবস্থানের অভাবেই আজ বিশ্ব ক্রিকেটে এই টালমাটাল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে মোস্তাফিজের অব্যাহতি এবং পরবর্তীতে নিরাপত্তা অজুহাতে ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের খেলতে না চাওয়ার ঘটনার ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানও এখন ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে।

পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বার্নি বলেন, ‘ক্রিকেট প্রশাসকরা যদি একটু সচেতন হতেন এবং মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ঘোষণাটি জনসমক্ষে না আসত, তবে এই পরিস্থিতি এড়ানো যেত। বিসিসিআই চাইলে ব্যক্তিগতভাবে ফ্র্যাঞ্চাইজিকে খেলোয়াড় ছেড়ে দিতে বলতে পারতো, কেউ কিছু জানতও না। কিন্তু ৩ জানুয়ারির সেই প্রকাশ্য ঘোষণাটিই সব নষ্টের মূল ট্রিগার হিসেবে কাজ করেছে।’

পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পিসিবি প্রধান মহসিন নকভির মনোভাব ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বার্নি বলেন, ‘গত নভেম্বরে ভারত যখন পাকিস্তানে যেতে অস্বীকৃতি জানায়, তখন আইসিসি এক রকম অবস্থান নিয়েছিল।

কিন্তু বাংলাদেশের ভেন্যু ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার দাবিতে আইসিসি যখন রাজি হয়নি, তখন মহসিন নকভি এটাকে 'দ্বিমুখী নীতি' হিসেবে দেখছেন। তার মনে হয়েছে নিয়মনীতি সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে না।’

ভারতের বিপক্ষে ১৫ ফেব্রুয়ারির ম্যাচটি বয়কট করলে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন ডলারের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে আইসিসি। এছাড়া পাকিস্তান বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার সম্মুখীন হতে পারে।
তবে বার্নি মনে করেন, পাকিস্তান এই ঝুঁকি জেনেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি মনে করিয়ে দেন, ‘গত ২০ বছর ধরে ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ না খেলেও পাকিস্তান ক্রিকেটে টিকে আছে, এমনকি বড় টুর্নামেন্টও জিতেছে। তাই আর্থিক ধাক্কা সামলানোর সামর্থ্য পিসিবির আছে।’

(ওএস/এএস/ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬)