সমরেন্দ্র বিশ্বশর্মা, কেন্দুয়া : ১৫৯ নেত্রকোনা-৩ (আটপাড়া-কেন্দুয়া) নির্বাচনী এলাকায় বিএনপির মনোনিত প্রার্থী ডক্টর রফিকুল ইসলাম হিলালীর সাথে বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: দেলোয়ার হোসেন ভূঞা দুলালের দ্বিমুখী তুমুল লড়াই হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চাপের মুখে দুই উপজেলার ভোটার গণ। 

আটপাড়া ও কেন্দুয়া উপজেলা নিয়ে নেত্রকোনা ৩ আসন। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২০ হাজার ৬৮৭ জন। এর মধ্যে ২ লাখ ১৪ হাজার ৮৮৪ জন পুরুষ ও ২ লাখ ৫ হাজার ৭৯৪ জন মহিলা। কেন্দুয়া উপজেলায় একটি পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৮৫ হাজার ৯১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ এবং মহিলা ১ লাখ ৩৯ হাজার ৪১০ ও হিজড়া ৬ জন ভোটার রয়েছেন। এ উপজেলায় মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা রয়েছে ৯৬টি। অপর দিকে আটপাড়া উপজেলায় ৭টি ইউনিয়নের মোট ভোটার ১ লাখ ৩৪ হাজার ৭৭১ জন। এর মধ্যে মহিলা ৬৬ হাজার ৩৮৪ এবং পুরুষ ৬৮ হাজার ৩৮৪ ও হিজড়া ৩ ভোটার রয়েছে। এই উপজেলায় মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ৫৩টি।

বিএনপির মনোনিত প্রার্থী সাবেক ছাত্রনেতা ডক্টর রফিকুল ইসলাম হিলালী বর্তমানে বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও নেত্রকোনা জেলা বিএনপির নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক। তিনি দাবি করে বলেন, দীর্ঘ ৪২ বছরের রাজনৈতিক জীবনে হামলা মামলা ও নির্যাতনের পরও কখনো দল ছাড়িনি। বিএনপিই তার জীবনের আদর্শ দাবি করে তিনি বলেন, আটপাড়া কেন্দুয়া নির্বাচনী এলাকার ভোটার গণ আদর্শ, যোগ্যতা ও উন্নয়নের প্রশ্নে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকেই জয়যুক্ত করবেন। তিনি বলেন, আমার রাজনৈতিক জীবনে কখনো নেতাকর্মী ছাড়াও সাধারণ জনগণের সাথে ধোকাবাজির রাজনীতি করিনি। এবার বলেছিলাম ধানের শীষ যার হাতে আমরা আছি তার সাথে। আমি আমার কথা ঠিক রেখেছি। জনগণ এর বিচার করবেন এবং বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের সম্মান রক্ষার্থেই আমাকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করে জনগণের কথা বলার জন্য মহান সংসদে পাঠাবেন ইনশাল্লাহ।

অপরদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও কেন্দুয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো: দেলোয়ার হোসেন ভূঞা দুলাল বলে, আশা ছিল আমিই বিএনপির মনোনায়ন পাবো। কিন্তু অবশেষে মনোনায়ন পায়নি। তবে দুই উপজেলার নির্যাতিত মেহনতি জনগণের দাবির প্রেক্ষিতেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হয়েছে। আমার নির্বাচনী প্রতীক ঘোড়া। বিএনপির বিপক্ষে নির্বাচন করায় দল থেকে ইতিমধ্যে তাকে বহিস্কার করা হয়েছে।

তবুও তিনি বলেন, ১৯৮৮ সাল থেকে গণমানুষের সাথে রাজনীতি করি। কান্দিউড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, কেন্দুয়া পৌরসভার চেয়ারম্যান ও কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে জনগণের সুখে দুঃখে পাশে থেকেছি। তাদের কথা শুনেছি। দীর্ঘ দিন জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও কোন দিন জনগণের সাথে বেইমানি করিনি। অনিয়ম দুর্নীতির সাথে জড়িত হয়নি। এসব কারণের মূল্যায়ন করেই জনগণ আমাকে ঘোড়া প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবেন। দুই শক্তিশালী প্রার্থীর চাপের মুখে পড়েছেন ভোটারগণ। দুই উপজেলায় সরেজমিনে গিয়ে তথ্য সংগ্রহকালে দলীয় কর্মী সমর্থক ছাড়া সাধারণ ভোটারগণ করছেন নানান হিসেব নিকেষ। এক দিকে ভাবছেন উন্নয়নের কথা অন্যদিকে ভাবছেন স্থানীয় সম্পর্কের কথা। এই দুই মিলিয়ে দুই প্রার্থীর কঠিন চাপের মুখে তারা মুখ খুলছেন না। অবশেষে এই নির্বাচনী এলাকায় কার ভাগ্যে শিকে ছিড়ে তা বলা খুবই কঠিন। তবে প্রচার প্রচারণা পথসভার দিক দিয়ে ডক্টর রফিকুল ইসলাম হিলালী অনেক এগিয়ে থাকলেও দুজনই জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।

(এসবি/এসপি/ফেব্রুয়ারি ০৩, ২০২৬)