মিনেসোটা থেকে ৭০০ অভিবাসন প্রয়োগ কর্মকর্তা প্রত্যাহার করল হোয়াইট হাউস
ইমা এলিস, নিউ ইয়র্ক : বুধবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সীমান্তবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা টম হোমান ঘোষণা করেছেন, ফেডারেল, অঙ্গরাজ্য ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ গণহারে বহিষ্কার কার্যক্রমে সহযোগিতায় সম্মত হওয়ার পর মিনেসোটা থেকে অবিলম্বে ৭০০ জন অভিবাসন প্রয়োগ কর্মকর্তাকে প্রত্যাহার করা হবে।
হোমান জানান, প্রত্যাহার হওয়া এই জনবল বর্ডার প্যাট্রোল এজেন্ট এবং ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইসিই) কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত।
মিনিয়াপোলিসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, লক্ষ্য তালিকা ছোট হচ্ছে। কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা ও সিকিউরিটি টিম ঝুঁকিতে না ফেলে কী যুক্তিসংগত তা বিবেচনা করে আমরা দেখেছি এই সংখ্যা ৭০০। আইসিইর উপস্থিতিকে আগের ‘মিনেসোটা ফুটপ্রিন্ট’-এ ফিরিয়ে আনাই উদ্দেশ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হোমান বলেন, বুধবারের ঘোষিত প্রত্যাহারের পর মিনেসোটায় প্রায় ২,০০০ জন হোমল্যান্ড সিকিউরিটির অভিবাসন প্রয়োগ কর্মকর্তা বহাল থাকবে।
অ্যালেক্স প্রেটি নিহত হওয়ার ঘটনার পর পরিস্থিতি সামাল দিতে মিনিয়াপোলিসে দায়িত্ব নিতে পাঠানো হোমান জানান, কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকারী জনবল কমানো হবে না এবং প্রশাসনের গণহারে বহিষ্কার অভিযানও বন্ধ হচ্ছে না।
তিনি বলেন, আমরা প্রেসিডেন্টের গণহারে বহিষ্কারের মিশন থেকে সরে যাচ্ছি না। আপনাকে যদি খুঁজে পাই এবং আপনি অবৈধভাবে দেশে থাকেন, আমরা আপনাকে বহিষ্কার করব। তবে প্রেটির গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর মিনিয়াপোলিসে কয়েক সপ্তাহের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে এটি মাঠপর্যায়ে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সবচেয়ে বড় প্রত্যাহার হিসেবে দেখা হচ্ছে। এই গুলির ঘটনায় মিনেসোটায় আইসিই ও বর্ডার প্যাট্রোলের উপস্থিতি নিয়ে আগে থেকেই উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। রেনে গুডের পর প্রেটি ছিলেন ফেডারেল কর্তৃপক্ষের গুলিতে নিহত দ্বিতীয় মার্কিন নাগরিক।
হোমানের তুলনামূলক শান্ত ভঙ্গি ও সুর ক্রিস্টি নোম ও বর্ডার প্যাট্রোল কমান্ডার গ্রেগরি বোভিনো–র অবস্থানের সঙ্গে ভিন্ন বলে মনে করা হচ্ছে। প্রেটির গুলির ঘটনার পর প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া নিয়ে নোম ও বোভিনোর বিরুদ্ধে সমালোচনা হয়। গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্টের নির্দেশে বোভিনো মিনেসোটা ছাড়েন, তখনই হোমানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এদিকে নোম মিনেসোটা কার্যক্রমে অনুপস্থিত থেকে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে তীব্র তুষারঝড়ের মধ্যে ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (ফেমা)–র কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন।
বুধবারই সীমান্ত এলাকায় বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে নোমের—হোমান মিনিয়াপোলিসে বক্তব্য দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর।
তবু হোমান নোম ও বোভিনোর মতোই বামপন্থী রাজনৈতিক শিবিরের বিক্ষোভকারীদের মিনেসোটার সহিংসতার জন্য দায়ী করেন। তিনি বলেন, আমি এ বছরের মার্চেই বলেছিলাম বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বন্ধ না হলে রক্তপাতের আশঙ্কা আছে। আর সেটাই হয়েছে।
(আইএ/এসপি/ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬)
