কাপাসিয়া-মনোহরদী সংযোগ সড়ক, ব্রিজ আছে রাস্তা নাই
সঞ্জীব কুমার দাস, কাপাসিয়া : গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সিঙ্গুয়া বাজার ও নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার আছাদ নগড়ের সংযোগস্থলে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হলে চার বছরে ও নির্মিত হয়নি সংযোগ সড়ক। সেতুর মূল কাঠামো দাঁড়িয়ে থাকলেও দুই পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় পুরো প্রকল্পটি কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে, যা রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয়ের এক দৃষ্টান্ত উদাহরণ বলে এলাকাবাসী মনে করেন।
সরেজমিনে পরির্দশন করে জানা যায়, ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর ৯৬ মিটার দীর্ঘ পি.এস.সি. গার্ডার সেতুটি উপজেলা গ্রামীন সড়ক উন্ন্য়নে অনূর্ধ্ব ১০০ মিটার সেতু নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় অনুমোদন পায়। তবে প্রকল্প অনুমোদনের সময় সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণ, রাস্তার নকশা ও বাস্তবায়ন প্রস্তুতি নিশ্চিত করা না করে প্রকল্প নথিতে সেতু নির্মাণের কাজকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। তখন সংযোগ সড়কের বিষয়টি ছিল অস্পষ্ট। ফলে সেতুর মূল কাঠামো দাঁড়িয়ে গেলেও বাস্তবে সেতুটি ব্যবহারের উপযোগী করা হয়নি।
সুত্র জানান, গত ২০২২ সালের ৭ মার্চ কার্যাদেশ দেয়া হয় এবং কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৪ সালের ১২ মার্চ, কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও সংযোগ সড়কের কাজ শুরু না হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও প্রকল্প তদারকির দুর্বলতার থাকায় পর ও কাউকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
সেতু চালু না হওয়ায় কাপাসিয়া ও মনোহরদীর হাজারো মানুষ এখনো ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান কিংবা দীর্ঘ বিকল্প পথে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন। বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থী, রোগী ও কর্মজীবী মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে।
স্থানীয় বাসিন্দা মুহাম্মদ আলী বলেন, চার বছর ধরে শুধু আশ্বাস পাচ্ছি। ব্রিজ দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু রাস্তা নেই। বর্ষায় স্কুলগামী শিশু, রোগী সবাই ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছে, কিন্তু রাস্তা হচ্ছে না। সড়ক নির্মাণ না করা হলে ও এই সেতু নির্মাণে মানুষের কোনো উপকারে আসছে না।
সিঙ্গুয়া বাজারের একাধিক ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন শত শত মানুষ বিকল্প পথে কিংবা নৌকায় পারাপার হচ্ছে, যা যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। নদীর ওই পার থেকে মানুষ এসে এখানে ব্যবসা করে থাকে। মালামাল পরিবহনে তাদের বাড়তি সময় ও খরচ গুনতে হচ্ছে। তাই তারা প্রকল্পটি দ্রুত সম্পন্ন করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয় শিক্ষক জসিম উদ্দিন বলেন, এই সেতু চালু হলে শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসত। কিন্তু অব্যবস্থাপনার কারণে মানুষ কাক্সিক্ষত সুবিধা পাচ্ছে না।
শিক্ষক ওমর ফারুক বলেন, তিনি গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সিঙ্গুয়ার একটি মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করার সুবাদে নিয়মিত যাতায়াত করে থাকেন। তিনি নরসিংদীর আসাদনগড়ের বাসিন্দা। এ ছাড়া বহু ছাত্র-ছাত্রী নদীপথেই যাতায়াত করে প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। বর্ষা মৌসুমে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের।
মনোহরদী উপজেলা প্রকৌশলী হরষিত কুমার সাহা জানান, ৯৬ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি পি.এস.সি. গার্ডার সেতুর কাজ প্রায় ৯০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ২০২২ সালের ৭ মার্চ কার্যাদেশ জারি হয় এবং নির্ধারিত সময় ছিল ২০২৪ সালের ১২ মার্চ পর্যন্ত। বিশেষ অবস্থানগত জটিলতার কারণে কাজের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। সংশোধিত সময়সীমা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে সংশোধিত সময়সীমা কবে কার্যকর হবে বা কবে সেতু চালু হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো আশ্বাস দেননি তিনি।
এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে সেতুটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেয়ার।
(এসকেডি/এসপি/ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬)
