বেড়েছে মৌমাছির আনাগোনা
সোনাতলায় গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আমের মুকুল
বিকাশ স্বর্ণকার, সোনাতলা : বগুড়ার সোনাতলায় গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে আমের মুকুল। এ কারণে মৌমাছির আনাগোনাও বেড়ে গেছে মুকুলে মুকুলে। কৃষিবিদদের মতে, আমের মুকুল সুরক্ষায় বা ভাইরাস প্রতিরোধে পরিমাণ মতো কীটনাশক স্প্রে করতে পারলেই বাম্পার ফলন হবে আমের।
উপজেলার রাস্তা ঘাট ও গ্ৰামগঞ্জে চোখে পড়বে গাছের কান্ডে শাখা প্রশাখা বিস্তার করে মুকুলগুলো দাড়িয়ে আছে। তবে রাজশাহী বিখ্যাত বা রংপুরের হাঁড়িভাঙ্গা সহ সুস্বাদু বিভিন্ন জাতের আম গাছ বাড়ির আশপাশ লাগিয়েছে অনেকেই। এ কারণেই এই উপজেলায় উন্নত প্রজাতির আম গাছ ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সাথে আগের মতো আর রাজশাহী বা রংপুরের দিকে তাকিয়ে থাকতে হয়না এ অঞ্চলের মানুষদের। যদিও আমের ভালো ফলনের জন্য অনেকে অনেক পদ্ধতি গ্রহণ করে থাকে। কীটনাশক স্প্রে গ্রামাঞ্চলের একটি সচেতনতাহীন পদ্ধতি।
আমের ফলন অনেকাংশেই নির্ভর করে প্রাকৃতির উপর। মৌমাছি, প্রজাপতি, মাছি ও অন্যান্য পোকামাকড় এক গাছ থেকে অন্য গাছের মুকুলে বসে তারা মুকুলের ব্যাপক ক্ষতি সাধন করে। মুকুল হতে আম পর্যন্ত কৃষিবিদদের পরামর্শ ক্রমে কিটনাশক প্রয়োগ করলে একদিকে যেমন ভাইরাস দমন হবে অন্যদিকে আমের ভালো ফলন হবে। মাত্রাতিরিক্ত কিটনাশক ব্যবহারে সরাসরি প্রভাব পড়ে পরাগায়নে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ। এতে ঝরে যায় ফুল, কমতে থাকে ফল আসার সম্ভাবনা। শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয় কৃষক।
গবেষণা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা বলছে, অনেক বাগানে পোকার ক্ষতির চেয়ে পরাগায়ন ঘাটতির ক্ষতিটাই বেশি। অথচ অধিকাংশ কৃষক বিষয়টি অনুধাবন করতে পারে না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ইতিমধ্যে গাছে গাছে আমের মুকুল এসেছে। আমের ভালো ফলনের জন্য বিষের ওপর নয়, বরং প্রকৃতির সহায়ক শক্তির উপর ভরসা করাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। টেকসই কৃষি নিশ্চিত করতে হলে এখনই আমাদের চাষাবাদ পদ্ধতিতে সচেতন হতে হবে।
(বিএস/এসপি/ফেব্রুয়ারি ০৫, ২০২৬)
