কিরগিজস্তানের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে রোসাটমের অ্যাডিটিভ প্রযুক্তি
বিশেষ প্রতিনিধি : কিরগিজস্তানের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে এডিটিভ ম্যানুফ্যাকচারিং প্রযুক্তি চালু করতে সহযোগিতা করছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কর্পোরেশন রসাটম। এর ফলে দেশটির ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বিস্তৃত হবে বলে রসাটমের মিডিয়া উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
এই সহযোগিতার আওতায় নতুন ও বিদ্যমান জলবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম থ্রিডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির মাধ্যমে উৎপাদন করা হবে। প্রি-ডিজাইন ও ডিজাইন ডকুমেন্টেশন থেকে শুরু করে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম সরবরাহে উভয় দেশ যৌথভাবে কাজ করবে।
রসাটমের জ্বালানি বিভাগের অ্যাডিটিভ প্রযুক্তি বিজনেস ইউনিটের পরিচালক ইলিয়া কাভেলাশভিলি বলেন, “অ্যাডিটিভ প্রযুক্তির পুরো সাইকেল জুড়ে রসাটমের অনন্য অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা রয়েছে। উচ্চপ্রযুক্তির থ্রিডি প্রিন্টার ও ধাতব পাউডারের ধারাবাহিক উৎপাদন থেকে শুরু করে জনবল প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সেবা সব কিছুই এর অন্তর্ভূক্ত। কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের জ্বালানি খাতে এসব প্রযুক্তির প্রয়োগে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে”।
এই সহযোগিতার অংশ হিসেবে কিরগিজ–রুশ স্লাভিক বিশ্ববিদ্যালয় (কেআরএসইউ) ক্যাম্পাসে একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প অফিস চালু করা হয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে রসাটমের অংশগ্রহণে এই কার্যালয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং প্রকল্প নথি তৈরির ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হবে। একই সঙ্গে এটি একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ইন্টেলেকচুয়াল হাব এবং আন্তর্জাতিক মানের মডেল প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও কাজ করবে।
কেআরএসইউ-এর রেক্টর সের্গেই ভলকভ বলেন, “আমরা শুধু শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণই দেব না; তাদের এমন প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগের সুযোগ করে দেব, যা এই মুহূর্তে বিশ্বকে বদলে দিচ্ছে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন আইডিয়াগুলো বাস্তব উৎপাদনে রূপ নেবে এবং প্রজাতন্ত্রের প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত হবে।”
এডিটিভ প্রযুক্তি, যা অ্যাডিটিভ ম্যানুফ্যাকচারিং নামেও পরিচিত এমন একটি উৎপাদন প্রক্রিয়া যেখানে ডিজিটাল নকশার ভিত্তিতে একটি স্তরের পর আরেকটি স্তরে উপাদান যোগ করে কোন বস্তু বা সামগ্রী তৈরি করা হয়। এক্ষেত্রে সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ হলো থ্রিডি প্রিন্টিং, যেখানে প্লাস্টিক, ধাতু বা রেজিনের মতো উপকরণ ব্যবহৃত হয়। প্রচলিত উৎপাদন পদ্ধতির তুলনায় এতে কম অপচয়ে, নিখুতভাবে এবং জটিল আকৃতির সামগ্রী তৈরি করা সম্ভব।
(এসকেকে/এসপি/ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬)
