বিকাশ স্বর্ণকার, সোনাতলা : বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় ১০হাজার ৩৪০হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বোরো ধান রোপনে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। ফলে সকাল থেকে শুরু করে দিনভর মাঠে চলছে রোপনের কাজ। তবে শীতের তীব্রতায় ধান রোপনে কিছুটা বাধার সন্মুখীন হতে হচ্ছে। এবার নতুন কিছু ভিন্ন জাতের ধানগুলোর মধ্যে প্রথমেই এই উপজেলায় ব্রি-১০৮ জাতের ধান এসেছে। প্রাথমিক ভাবে প্রদর্শনী সহ ধান রোপনে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে। যদিও অফিস বলছে এটি গুনগুত মানসম্পন্ন জাত এবং উচ্চ ফলনশীল। এছাড়াও উল্লেখযোগ্য  ব্রি-৮৯/৮১, ব্রি- ১০০/১০২ অন্যান্য জাত ছাড়াও উচ্চ ফলনশীল ২৮/২৯ জাত রয়েছে। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর অফিস সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ইরি-বোরো ধানের চারা রোপণের পুরো মৌসুম শুরু হয়েছে। তবে শ্রমিক সংকটের কারণে ধানের চারা রোপণ নিয়ে বেশ বিপাকে রয়েছেন কৃষকরা। বিশেষজ্ঞদের মতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন কে কেন্দ্র চলছে উৎসবের আমেজ। তবে নির্বাচন পরবর্তীতে ধানের চারা রোপণে ধুম পড়ে যাবে। এদিকে সকাল থেকে শুরু করে দিনভর মাঠে চলছে কৃষকদের মহা ব্যস্ততা। জমিতে জল সেচ, হালচাষ, বীজতলা থেকে চারা তুলে রোপণ সব কিছু মিলিয়ে একেবারেই ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন কৃষকরা।

কৃষক জানায়, পৌষ মাসের শেষের দিকে বোরো ধান রোপণের কাজ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এবার ধান রোপন মৌসুমের শুরুতেই কনকনে শীতের কারণে মাঠে পানিতে নেমে ধানের চারা রোপন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। সে কারণে চলতি মৌসুমে বোরো ধান রোপণে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে। তবে আর ক'দিন পর কৃষকেরা পুরো দমে চারা রোপণ কাজে পুরোদমে মনযোগ দেবেন।

উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের মধুপুরের কৃষক নিখিল চন্দ্র রায় জানান, কিছুদিন আগেও প্রচন্ড শীতের কারণে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। তবে শীত কমার সম্ভাবনা কম থাকায় এর মধ্যেই জমিতে ধানের চারা রোপণ শুরু করেছি।

দিগদাইড় ইউনিয়নের চিল্লিপাড়ার কৃষক মানিক চন্দ্র মহন্ত ও ইসমাইল হোসেন জানান, চলতি বছর জমি রোপণে অনেকটাই দেরি হয়ে গেছে এজন্য তিনিও শীতকে দায়ী করলেন।

তিনি আরও বলেন, এবারে জমিতে হালচাষ, রাসায়নিক সার ও ধান রোপণ সব মিলিয়ে ৬ হাজার টাকা বিঘা প্রতি খরচ দাঁড়াবে। এছাড়াও নির্বাচন ও কনকনে শীতের কারণে কৃষিকাজে শ্রমিকের সংকট দেখা দিয়েছে।

সোনাতলা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সোহরাব হোসেন জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এই মৌসুমে ১০ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে বোরো ধান রোপণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে এই উপজেলার ১২শ কৃষকের মাঝে ৫ কেজি বীজ ও আনুপাতিক হারে রাসায়নিক সার সরকারি ভাবে বিনামূল্যে দেয়া হয়েছে। এবার একেবারেই নতুন ব্রি-১০৮ জাতের ধান এসেছে এবং কৃষকেরা সেটি রোপন করছেন।

তিনি আরও বলেন, এই নতুন জাতের ধান রোপণ করে ঠিকমত পরিচর্যা করলে প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৩৫ মন উৎপাদন সম্ভব।

(বিএস/এসপি/ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬)