শাহ্‌ আলম শাহী, দিনাজপুর : ‘অনেক দিন পর নানি বাড়ী এসেছি, আপনারা কী খাওয়াবেন আর কী দিবেন, বলেন! এজেলায় ভালো ধান ফলে, তাই নানীর বাড়ির এলাকার বিখ্যাত ধান অর্থাৎ ধানের শীষে আমি ভোট চাইতে এসেছি। দেশের উন্নয়ন করতে, দেশের মানুষকে ভালো রাখতে ধানের শীষে ভোট দিবেন। নানীর বাড়ির মানুষের কাছে একটাই আমার চাওয়া। নাতি হিসেবে আমার আবদার নানীর বাড়ির মানুষের কাছে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার।’

আজ শনিবার বিকালে দিনাজপুর জেলার বিরামপুর সরকারী কলেজ মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী প্রচারণ জনসভায় নাতি হিসেবে ভোট পাওয়ার আবদার রেখে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, 'দিনাজপুরকে সারাদেশ চিনে কৃষি প্রধান এলাকা হিসেবে। এই এলাকার লিচু খুবই বিখ্যাত। আমরা এই কৃষি প্রধান অঞ্চলকে কৃষির সাথে সম্পর্কিত শিল্প গড়ে তুলতে চাই। এই এলাকার বিখ্যাত লিচু প্রক্রিয়াজাতের মাধ্যমে বিদেশে রপ্তানী করতে চাই। লিচু সংরণের জন্য হিমাগার তৈরি করতে চাই। যাতে পরে লিচু বিদেশে রপ্তানী করতে পারি। ক্ষমতায় গেলে দিনাজপুরে উৎপাদিত আম প্রক্রিয়াজাত করনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কোম্পানীকে দিনাজপুরে আনা হবে।'

তারেক রহমান বলেন, 'যেই বাংলাদেশের আমার ভাইয়ের রাস্তায় নিরাপদে থাকতে পারবে। নিরাপদে চাকুরী করতে পারবে। নিরাপদে বসবাস করতে পারবে। নিরাপদে নিশ্চিতে রাতে ঘরে ঘুমাতে পারবে। যেই বাংলাদেশের মুসলমান, হিন্দু, আদিবাসী, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান হই। আমাদেরকে সকলকে বিচার করা হবে আমাদের যোগ্যতা এবং মেধার ভিত্তিতে। আমাদের পরিচয়, আমাদের ধর্ম নয়। আমাদের পরিচয় আমাদের জাতে। আমাদের পরিচয় হবে মেধা দিয়ে। আমাদের পরিচয় হবে আমাদের যোগ্যতা দিয়ে। আমরা এই রকম একটি বাংলাদেশ গড়ে চাই। আসুন আমরা সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলি যেই বাংলাদেশের জন্য ১৯৭১ সালে মুক্তিযোদ্ধারা জীবন উৎসর্গ করেছেন। জুলাই যোদ্ধারা নিজেদের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন। আসুন আমরা সেই বাংলাদেশ গড়ে তুলি। আমরা অনেক আন্দোলন করেছি, গণতন্ত্র উদ্ধার করতে। এখন গণতন্ত্র উদ্ধারের পথ ধীরে ধীরে আমাদের সামনে উপস্থিত হয়েছে। এখন গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠিত করার মাধ্যমে আমাদের পরবর্তী কাজ হবে এই দেশকে পুনর্গঠন করা। আজ এই নির্বাচনী জনসভায় আমি আমার রাজনৈতিক প্রতিপ সম্পর্কে অনেক কথা বলতে পারতাম। তাতে কি জনগণের উপকার হবে। জনগনের কোন উপকার হবে না। জনগনের তখনই উপকার হবে যখন একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা জনগনের জন্য এবং দেশের জন্য সঠিক পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারি। জনগনের জন্য তখনই ভালো হবে দেশের জন্য যখনই ভালো হবে যখন আমরা জনগনের সমর্থন নিয়ে জনগনের সহযোগিতা নিয়ে জনগনের ভোট নিয়ে আমরা দেশ গঠনের কাজে হাত দিব। তখনই জনগনের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। কাজেই আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন আমাদের হাতে। আমরা যদি পরিশ্রম করি আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি আমরা যদি একসাথে থাকি আমরা সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবো।

দিনাজপুর জেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মোফাজ্জল হোসেন দুলালের সভাপতিত্বে দিনাজপুর- ৬ আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও দিনাজপুর-৬ আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের নির্বাচনী প্রচারণা জনসভায় তারেক রহমান আরো বলেন, 'আমরা জনগণের সামনে এসে দাঁড়িয়েছি। জনগণের সমর্থন, ভালোবাসা ও জনগণের শক্তিতে বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করতে চাই। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যেখানে সাধারণ ও খেটে-খাওয়া মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারবে। নিরাপদে ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরি করতে পারবে।

আমার মা খালেদা জিয়া বলতেন, "বাংলাদেশ ছাড়া তাঁর আর কোন ঠিকানা নেই। বিএনপি’র প্রতিটি নেতা-কর্মী বিশ্বাস করে, বাংলাদেশই তাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা। আর এ জন্য আমরা জনগণের সামনে এসে দেশের উন্নয়নের জন্য দাঁড়িয়েছি। আমরা জনগণের শক্তিতে দেশ পুনর্গঠন করতে চাই।"

তিনি বলেন, ‘আমরা চাই এমন বাংলাদেশ, যেখানে মা-বোনেরা নিরাপদে কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে, নিরাপদে পথে চলতে পারবে। যেখানে শিশু ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মরা সুন্দর শিক্ষা ব্যবস্থা পাবে। যেখানে পড়াশোনা শেষে তরুণরা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাবে, বেকার থাকতে হবে না।’

দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচির পরিচালনায় নির্বাচনী জনসভায়, দিনাজপুর-৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন, দিনাজপুর সদর-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়া ও দিনাজপুর-৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী একেএম কামরুজ্জামানসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন। বিকেল ৩ টা ৪২ মিনিটে মঞ্চে বক্তৃতা দিতে শুরু করে প্রায় পৌনে এক ঘন্টা বক্তব্য রাখেন তিনি।

বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, 'বেকার সমস্যা দূরীকরণে কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনার, এলাকায় বিভিন্ন প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে, হয় তারা বিদেশে যাবেন অথবা দেশে ব্যবসা–বাণিজ্য করবেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘প্রতিটি পরিারের নারীদের আমরা ফ্যামিলি কার্ড দিতে চাই। এ অঞ্চলের মানুষ কৃষিনির্ভর। আমরা কৃষকদের মধ্যে কৃষি কার্ড দিতে চাই, যার মাধ্যমে তাঁরা সার বীজ, কীটনাশক পাবেন।’

বিএনপি সরকার গঠন করলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নেরও প্রতিশ্রুতি দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, নীলফামারী, রংপুর, দিনাজপুরসহ এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি হলো তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। বিএনপি সরকার গঠন করলে অন্যতম প্রধান কাজ হবে তিস্তা মহারিকল্পনার কাজ শুরু করা।

বক্তব্য শেষে তারেক রহমান ধানের শীষ হাতে তুলে দিয়ে দিনাজপুর- ৬ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডাঃ এজেডএম জাহিদ হোসেন, দিনাজপুর সদর- ৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মোঃ আখতারুজ্জামান মিয়া ও দিনাজপুর- ৫ আসনের বিএনপি প্রার্থী একেএম কামরুজ্জামানকে পরিচয় করিয়ে দিয়ে দিনাজপুরের ৬টি আসনে ধানের শীষে ভোট চান সকলের কাছে।

(এসেএস/এসপি/ফেব্রুয়ারি ০৭, ২০২৬)