স্পোর্টস ডেস্ক : জার্মানিতে লম্বা ছুটি আর স্পেনে গিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের ম্যাচ দেখা—সবই চূড়ান্ত ছিল মোহাম্মদ সিরাজের। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ভাগ্যের চাকা ঘুরে গেল এক ফোন কলে। চোট পাওয়া হার্ষিত রানার জায়গায় হুট করেই ডাক পেলেন জাতীয় দলে, আর মাঠে নেমেই হলেন জয়ের নায়ক। নিজের এই অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনকে ‘তকদির’ বা ভাগ্য হিসেবেই দেখছেন এই ভারতীয় পেসার।

ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে সিরাজ বলেন, ‘আল্লাহ যা লিখে রেখেছেন তা কেউ বদলাতে পারে না। আমি আসলাম এবং ম্যাচটি খেললাম—সবই আগে থেকে লেখা ছিল। আল্লাহ মহান।’

হায়দরাবাদে নিজের বাড়িতে থাকা সিরাজকে হুট করে ফোন করেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব।

ব্যাগ গুছিয়ে দ্রুত মুম্বাই আসার নির্দেশ দেন তিনি। সিরাজ প্রথমে ভেবেছিলেন অধিনায়ক হয়তো মজা করছেন। কিন্তু প্রধান নির্বাচকের ফোন পাওয়ার পর বাস্তবটা বুঝতে পারেন। ১৮ মাস পর টি-টোয়েন্টি দলে ফিরে কোনো প্রস্তুতি ছাড়াই জাসপ্রিত বুমরাহর অনুপস্থিতিতে দলের পেস অ্যাটাকের হাল ধরেন তিনি।

ভারতের দেওয়া ১৬১ রানের মাঝারি লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সিরাজের তোপের মুখে পড়ে যুক্তরাষ্ট্রের টপ অর্ডার। পাওয়ার প্লে-তেই জোড়া আঘাত হেনে প্রতিপক্ষকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন তিনি। ৪ ওভারে ২৯ রান খরচায় শিকার করেন ৩ উইকেট। সিরাজ জানান, রঞ্জি ট্রফিতে হায়দরাবাদের হয়ে যে লাইন ও লেন্থে বল করেছিলেন, এখানেও সেটিই বজায় রাখার চেষ্টা করেছেন।

দীর্ঘদিন টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে না খেললেও নিজের ১০ বছরের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা ছিল সিরাজের।

তিনি বলেন, ‘যখন আপনি সুযোগ পাবেন, তখন নিজেকে প্রস্তুত করার কৌশল আপনার জানা থাকতে হবে। আমি শুধু আমার শক্তির জায়গায় অটল ছিলাম।’

রিয়াল মাদ্রিদের গ্যালারিতে বসে ফুটবল দেখা না হলেও, ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে সিরাজের বোলিং জাদুতে মুগ্ধ হয়েছে পুরো ক্রিকেট বিশ্ব। সিরাজের বিশ্বাস, এটি স্রেফ কঠোর পরিশ্রম নয়, বরং উপরওয়ালার লিখে রাখা এক সুন্দর পরিকল্পনা।

(ওএস/এএস/ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৬)