নীলফামারী- ২ আসনে জামায়াতের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন
ওয়াজেদুর রহমান কনক, নীলফামারী : নীলফামারীতে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর রাজপথে সক্রিয় উপস্থিতি মূলত তাদের সাংগঠনিক প্রস্তুতি ও রাজনৈতিক বার্তার প্রকাশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রম সীমিত থাকায় দলটি এখন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের কর্মী–সমর্থকদের পুনরায় সংগঠিত করার সুযোগ হিসেবে পরিস্থিতিকে ব্যবহার করছে। রাজপথে শোডাউন, সভা–সমাবেশ ও মিছিলের মাধ্যমে তারা এই বার্তাই দিতে চাইছে যে, স্থানীয় পর্যায়ে তাদের সাংগঠনিক কাঠামো এখনো কার্যকর রয়েছে এবং প্রয়োজনে স্বল্প সময়ের মধ্যেই মাঠে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
নীলফামারী–২ সদর আসন রাজনৈতিকভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল এলাকা। এই আসনের মধ্যে নীলফামারী পৌরসভা এবং সদর উপজেলার ১৫টি ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত, যেখানে শহর ও গ্রাম—উভয় ধরনের ভোটারের মিশ্রণ রয়েছে। সর্বশেষ ভোটার তালিকা অনুযায়ী এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় সাড়ে তিন থেকে চার লাখের কাছাকাছি, যার মধ্যে নারী ভোটারের অংশ উল্লেখযোগ্য। শিক্ষিত মধ্যবিত্ত, সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের সমন্বয়ে গঠিত এই ভোটার কাঠামো রাজনৈতিকভাবে তুলনামূলক সচেতন বলে বিবেচিত হয়। অতীতের নির্বাচনগুলোতে এই আসনে ভোটার উপস্থিতির হার সাধারণত মাঝারি থেকে তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল, যা দলগুলোর জন্য সংগঠনের শক্তি যাচাইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
ঐতিহাসিকভাবে নীলফামারী সদর এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর একটি নির্দিষ্ট ও স্থায়ী ভোটব্যাংক বিদ্যমান ছিল। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পেশাজীবী মহল এবং ধর্মীয়ভাবে সচেতন কিছু শ্রেণির মধ্যে দলটির প্রভাব দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ করা গেছে। সেই বাস্তবতাকে সামনে রেখে জামায়াত এখন তৃণমূল পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে, পুরোনো সাংগঠনিক নেটওয়ার্ককে পুনরুজ্জীবিত করছে এবং নতুন প্রজন্মের কর্মীদের দৃশ্যমানভাবে সামনে আনছে। রাজপথে শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে তারা একদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জন্য সামাজিক ও রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করছে, অন্যদিকে সাধারণ ভোটারদের কাছে নিজেদের অস্তিত্ব ও সক্রিয়তার স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।
এই ধরনের সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন কেবল ভোটের সরল অঙ্কেই সীমাবদ্ধ নয়। নীলফামারী– ২ আসনের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এটি ভবিষ্যৎ দরকষাকষি ও সমীকরণ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নির্বাচনী জোট, আসনভিত্তিক সমঝোতা কিংবা পরবর্তী রাজনৈতিক সমীকরণে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে রাজপথের এই দৃশ্যমানতা কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি প্রশাসন ও প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও একটি স্পষ্ট বার্তা বহন করে যে, জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী সদর আসনে নিজেদের হিসাবযোগ্য ও প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায়।
সব মিলিয়ে, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে নীলফামারী–২ সদর আসনে জামায়াতের রাজপথমুখী তৎপরতা শুধু তাৎক্ষণিক নির্বাচনী কৌশল হিসেবে দেখলে চিত্রটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক পুনর্গঠন, সংগঠনের পুনঃসংহতি এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান নতুন করে নির্ধারণের একটি সচেতন ও পরিকল্পিত প্রক্রিয়া বলেই ব্যাখ্যা করা যায়।
নীলফামারী– ২ আসন, যা নীলফামারী সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত, সেখানে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটার তালিকা অনুযায়ী মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৭৮৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৪ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯২ হাজার ৭৪৯ জন। এ ছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন।
এই পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, নীলফামারী–২ আসনে পুরুষ ও নারী ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান। দু’পক্ষের মধ্যে পার্থক্য খুবই সামান্য, ফলে মোট ভোটারের হিসাবে নারী ও পুরুষের অনুপাত প্রায় সমান বলেই ধরা যায়।
এই বাস্তবতা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়। নির্বাচনী পরিকল্পনা ও প্রচারণার ক্ষেত্রে যেমন পুরুষ ভোটারদের গুরুত্ব রয়েছে, তেমনি নারী ভোটারদের ভূমিকাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই এই আসনে সফল হতে হলে নারী ও পুরুষ—উভয় শ্রেণির ভোটারের দিকেই সমান মনোযোগ দেওয়া জরুরি।
নীলফামারীতে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামীর রাজপথে সক্রিয় উপস্থিতি মূলত তাদের সংগঠন পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক বার্তা জোরালোভাবে তুলে ধরার একটি সুপরিকল্পিত উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রম সীমিত থাকায় দলটি এখন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিজেদের কর্মী–সমর্থকদের নতুন করে সক্রিয় করার সুযোগ হিসেবে নিচ্ছে। রাজপথে শোডাউন, সভা–সমাবেশ ও মিছিলের ধারাবাহিক আয়োজনের মাধ্যমে তারা বোঝাতে চাইছে যে, স্থানীয় পর্যায়ে তাদের সাংগঠনিক কাঠামো এখনো সচল রয়েছে এবং প্রয়োজন হলে স্বল্প সময়ের মধ্যেই ব্যাপক জনসম্পৃক্ততা তৈরি করার সক্ষমতা তাদের আছে।
নীলফামারী– ২ সদর আসন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও জনবহুল একটি এলাকা। এই আসনের আওতায় নীলফামারী পৌরসভা ছাড়াও সদর উপজেলার একাধিক ইউনিয়ন রয়েছে, যেখানে শহরভিত্তিক ভোটারদের পাশাপাশি গ্রামীণ ভোটারদেরও বড় অংশ রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সর্বশেষ ভোটার তালিকা অনুযায়ী এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৭৮৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৪ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯২ হাজার ৭৪৯ জন, পাশাপাশি তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ২ জন। এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে যে, নারী ও পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান, যা নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে দলগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা তৈরি করেছে।
ভোটার কাঠামোর দিক থেকে নীলফামারী–২ আসনে শিক্ষিত মধ্যবিত্ত শ্রেণির উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি। সরকারি ও বেসরকারি চাকরিজীবী, শিক্ষক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী, কৃষিজীবী এবং শ্রমজীবী মানুষের সমন্বয়ে গঠিত এই জনপদ রাজনৈতিকভাবে সচেতন বলে পরিচিত। অতীতের নির্বাচনগুলোতে এই আসনে ভোটার উপস্থিতির হার সাধারণত সন্তোষজনক ছিল, যা দলগুলোর সাংগঠনিক শক্তি ও মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতির একটি বাস্তব সূচক হিসেবে বিবেচিত হয়। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্থানীয় সংগঠন ও নাগরিক আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক মতামত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে, যা নির্বাচনী প্রচারণাকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলে।
ঐতিহাসিকভাবে নীলফামারী সদর এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর একটি নির্দিষ্ট ও স্থায়ী ভোটব্যাংক বিদ্যমান ছিল। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক কার্যক্রম, পেশাজীবী মহলে প্রভাব এবং ধর্মীয়ভাবে সচেতন কিছু শ্রেণির মধ্যে দলটির সংগঠিত সমর্থন দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ করা গেছে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে সেই পুরোনো ভিত্তিকে পুনরুজ্জীবিত করার পাশাপাশি নতুন ভোটারদের, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে সংগঠনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। রাজপথে সক্রিয় উপস্থিতির মাধ্যমে দলটি একদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের পরিচিতি ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে সাধারণ ভোটারদের কাছে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব ও সক্রিয়তার বিষয়টি নতুন করে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।
এই সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন কেবল ভোটের হিসাবেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নির্ধারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নীলফামারী–২ আসনে সম্ভাব্য নির্বাচনী জোট, আসনভিত্তিক সমঝোতা কিংবা জাতীয় রাজনীতির বৃহত্তর সমীকরণে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করতে রাজপথের এই দৃশ্যমানতা একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি প্রশাসন ও প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও একটি সুস্পষ্ট বার্তা বহন করে—জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী সদর আসনে নিজেদের হিসাবযোগ্য, সংগঠিত ও প্রভাবশালী শক্তি হিসেবে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায়।
সব মিলিয়ে, আসন্ন নির্বাচনকে ঘিরে নীলফামারী–২ সদর আসনে জামায়াতের রাজপথমুখী তৎপরতা শুধু তাৎক্ষণিক নির্বাচনী কৌশল হিসেবে দেখলে বাস্তব চিত্রটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়। বরং এটি দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক পুনর্গঠন, সংগঠনের পুনঃসংহতি, ভোটার কাঠামোর পরিবর্তনকে বিবেচনায় নেওয়া এবং পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় নিজেদের অবস্থান নতুন করে নির্ধারণের একটি সচেতন ও পরিকল্পিত প্রক্রিয়া বলেই ব্যাখ্যা করা যায়।
(ওকে/এসপি/ফেব্রুয়ারি ০৮, ২০২৬)
