রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে তিন নারীসহ একই পরিবারের আটজনকে ঘরের মধ্যে আটকে রেখে  পিটিয়ে জখম, লুটপাট ও বাড়িঘর ভাংচুরের ঘটনায় ১৬ দিনেও কোন আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। গত ২৪ জানুয়ারি বিকেলে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব নলতা গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শাহাদাৎ ও আজগার আলী মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়লেও হামলাকারি মাসুম বিল্লাহসহ পাঁচজন আসামী বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির কাছের লোক হওয়ায় পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে ভয় পাচ্ছে।

ঘটনা ও মামলার বিবরণে জানা যায়, পূর্ব নলতা গ্রামের ইমান আলী গাজীর ছেলেদের সাথে একই গ্রামের মান্দার গাজীর ছেলে মনিরুদ্দিন গাজীর প্রায় তিন শতক জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। রয়েছে দেওয়ানী আদালতে মামলা। ওই জমি দখল করার জন্য মনিরুদ্দিন গাজীর ছেলে মাসুম বিল্লাহ দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ জানুয়ারি বিকেলে মাসুম বিল্লাহ, তার বাবা মনিরুদ্দিন গাজী, আব্দুল মজিদ, সামছুদ্দিন গাজী ও মিজান গাজীসহ ২৫/৩০জন বাড়িতে ঢুকে আজগার মোল্লা, আমজাদ মোল্লা, শাহাদাৎ হোসেন রাজু, রেজাউল ইসলাম, শাকিলা বেগম, চায়না বেগম, রুবিনা খাতুন ও ফজিলা খাতুনকে পিটিয়ে জখম করে। লুটপাট করা হয় দেড় ভরি ওজনের সোনার চেইন ও একজোড়া কানের দুল। খবর পেয়ে পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। সন্ধ্যার পর হামলাকারি আব্দুল মজিদ প্রতিপক্ষের হামলায় মারা গেছে এমন খবর ছড়িয়ে দিয়ে আমজাদ হোসেন মোল্লা ও তাদের ভাইদের বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় অঅজগার হোসেন মোল্লা, শাহাদাৎ হোসেন মোল্লা ও রেজাউল ইসলামকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তারা আজো সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তবে রবিবার শাহাদাৎ হোসেন ও আজগারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও আটজনকে পিটিয়ে জখমের ঘটনায় রুবিনা খাতুন বাড়ি হয়ে গত পহেলা ফেব্রুয়ারি সাতক্ষীরা আমলী ২নং আদালতে মাসুম বিল্লাহসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা(সিআর-৭৪/২৬ কালিঃ) দায়ের করেন।বিচারক অর্পিতা আক্তার মামলাটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেন। থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জুয়েল হোসেন মামলাটি(জিআর-২৫/২৬ কালিঃ) রেকর্ড করে গত শুক্রবার আদালতে পাঠান। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা হিসেবে উপপরিদর্শক মোঃ কামাল হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

আজাগার আলী মোল্লার অভিযাগ, আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ এ পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা কালিগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক মোঃ কামাল হোসেন রবিবার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের জানান, রবিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

(আরকে/এএস/ফেব্রুয়ারি ০৯, ২০২৬)