বিশেষ প্রতিনিধি : কার্বন নিঃসরণ হ্রাস ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে দুবাইয়ে এমিরেটস ফ্লাইট ক্যাটারিং (EKFC) কাস্টম-বিল্ট বায়োডাইজেস্টার চালু করেছে। আকার ও সক্ষমতা বিবেচনায় বাণিজ্যিক পর্যায়ে এটি বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ। ইকেএফসির সেন্ট্রাল কমিসারি ইউনিটে স্থাপিত এই বায়োডাইজেস্টারটি উৎসস্থলেই জৈব বর্জ্য সরাসরি প্রক্রিয়াজাত করতে সক্ষম। এর ফলে ল্যান্ডফিলে পাঠানোর প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পাচ্ছে বলে এমিরেটসের মিডিয়া উইং এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে।

বায়োডাইজেস্টার অক্সিজেন, তাপ ও প্রাকৃতিক অণুজীবের সমন্বয়ে গঠিত অ্যারোবিক ডাইজেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করে খাদ্য বর্জ্য ভেঙ্গে ফেলে এবং সাধারণ কাজে ব্যবহারের উপযোগী গ্রে ওয়াটার উৎপাদন এই পদ্ধতির কার্যকারিতা সময়ের সঙ্গে বৃদ্ধি পায়, কারণ ক্রমান্বয়ে অণুজীবের কালচার পরিপক্ব হতে থাকে এবং এর দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।

বর্তমানে বায়োডাইজেস্টার সিস্টেমটি প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩.৫ টন বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করছেন। ভবিষ্যতে এ সক্ষমতা বেড়ে দৈনিক প্রায় ৬ হাজার টনে উন্নীত হবে। ইকেএফসির হিসাব মতে, প্রতি এক টন খাদ্য বর্জ্য ল্যান্ডফিলে না পাঠালে আনুমানিক ০.৭ টন কার্বন ডাই-অক্সাইড সমতুল্য (CO₂e) নিঃসরণ এড়ানো সম্ভব। মূলত ল্যান্ডফিলে পচন থেকে সৃষ্ট মিথেন গ্যাস নির্গমন হ্রাসের মাধ্যমে এটি অর্জিত হয়। পূর্ণ সক্ষমতা ও জৈবিক পরিপক্বতায় পৌঁছালে এই বায়োডাইজেস্টার বছরে ২,০০০ টনেরও বেশি CO₂e নিঃসরণ কমাতে সক্ষম হবে।

এছাড়াও, ইকেএফসি জ্বালানি ও পরিবহন খাতে কৌশলগত বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে । প্রতিষ্ঠানটি সৌর প্যানেল ব্যবহার করেছে, যা গত বছর ৪,০০০ মেগাওয়াট-ঘণ্টা (MWh) বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে এবং ১,৬০০ টন CO₂e নিঃসরণ এড়াতে সহায়তা করেছে। পাশাপাশি ধাপে ধাপে বৈদ্যুতিক যানবাহন যুক্ত করা হচ্ছে । এতদাঞ্চলে প্রথম বারের মতো ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রুফ-অব-কনসেপ্ট বৈদ্যুতিক হাই-লোডার যুক্ত করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

গত বছর ইকেএফসি তাদের প্রথম এলএফসি-৫০ বায়োডাইজেস্টারের মাধ্যমে প্রায় ৭৫,০০০ কেজি খাদ্য বর্জ্য প্রক্রিয়াজাত করেছে এবং প্যাকেজিং-এ পরিবর্তন এনে বছরে ৪৫,০০০ কেজি প্লাস্টিকের ব্যবহার কমাতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়াও উৎপাদন প্রক্রিয়ার ব্যবহৃত উপাদান গুলোর অতিরিক্ত অংশ পুনর্ব্যবহার করে ৪৭টি নতুন রেসিপি উদ্ভাবন করা হয়েছে, যা সম্ভাব্য বর্জ্য কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

(এসকেকে/এসপি/ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬)