মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ : পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে নির্বাচন উপলক্ষে গ্রামমুখী মাষুষের ঢল নামে। গাড়ীর অতিরিক্ত চাপ দেখা না গেলেও মোটর সাইকেলের সারি নজর কারে সকলের। দীর্ঘ সারি বেঁধে টোল দিয়ে সেতু পার হতে দেখা গেছে মোটরসাইকেলগুলোকে। কিন্তু পদ্মা সেতু উত্তর থানার সামনে ঘরমুখী মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও বাসে উঠতে পারছিলনা। শুধু পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তেই নয়, বাসের জন্য যাত্রীদের শ্রীনগর, ষোলঘর, হাসাড়া ও নিমতলা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রীদের বাসের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে। এসময় যাত্রীদের নিকট থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরজনিমে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে গিয়ে দেখা যায়, আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক যাত্রী পরিবহন না পাওয়ার অভিযোগ করেন। যাত্রীদের দাবি, বাসগুলো ফাঁকা আসন থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় স্টপেজ থেকে যাত্রী তুলছে না। কেউ কেউ জানান, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি অর্থ দাবি করা হয়।

পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে অপেক্ষমান বরিশালগামী বশির উদ্দিন নামে এক যাত্রী বলেন, ‘সকাল থেকে প্রায় ৫ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে আছি। এসময় অনেক বাস গেলেও আমাদের বাসে তোলছেনা কোন যাত্রীবাহি বাস। নির্বাচনের ছুটি পেয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছি। অথচ ভীড় থাকায় বাসগুলোতে উঠতে পারছিনা। ভাড়াও চাইছে বেশী। তাদের কাঙ্খিত ভাড়ায় রাজি না হলে বাসে তুলছেনা।’

শরিয়তপুরগামী এক নারী যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘বাচ্চা নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি প্রায় ঘণ্টা দুয়েক। বাস থামছে না। যাও দু একটা থামছে যাত্রীর ভিরে বাসে উঠতে পারছিনা। ভাড়াও চাইছে বেশী।এভাবে সাধারণ মানুষকে কষ্ট দেওয়া ঠিক না।’

তবে এক্সপ্রেসওয়েতে যানবাহনের তেমন চাপ দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নির্বাচনের ছুটিতে যাত্রীর চাপ বাড়লেও সার্বিক যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। প্রাইভেট কারের তেমন চাপ দেখা যায়নি। তবে মোটর সাইকেলের অতিরিক্ত চাপ ছিল। পদ্মা সেতুর টোল প্লাজায় মোটর সাইকেলগুলোকে দীর্ঘ লাইনে থেকে টোল পরিশোধ করতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া না গেলেও মাওয়া ট্রাফিক জোনের টিআই জিয়াউর হক জিয়া বলেন, অভিরিক্ত গাড়ীর কোন চাপ নেই। তবে বাস গুলোতে অতিরিক্ত যাত্রীর চাপ ছিল। তাই স্থানীয় বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রীদের বাসে উঠতে কিছুটা সমস্যা পড়দে হয়। নির্বাচন উপলক্ষে ছুটি পেয়ে সাধারণ লোকজন এখন গ্রামমুখী হওয়ায় এমনটা হচ্ছে।

(এমকে/এসপি/ফেব্রুয়ারি ১০, ২০২৬)