নির্বাচনটি প্রশ্নবিদ্ধ থাকবে?
শিতাংশু গুহ
জামাত নীরব প্রচার চালিয়ে যাচ্ছিলো যে, তারা ক্ষমতায় আসছে। প্রথমটায় এতে চমক ছিলো, ভোটের শেষ মুহূর্তে তা মিলিয়ে যায়, জামাত ক্ষমতায় আসছে না, ধারণা করি জামাতের আসন সংখ্যা ১শ’র নীচে থাকবে। বিএনপি জিতবে, আসন ১৬০-১৭০টি। বেশকিছু স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ছোট দল জিতে আসবে। এই দুর্দিনেও যদি আওয়ামী লীগের ছোটখাট নেতারা প্রতিদ্ধন্ধিতায় থাকতো তাহলে জামাতের আসন ২০’র নীচে নেমে আসতো, আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে বসতো। আর শেখ হাসিনা যদি মাঠে নামতে পারতেন, তাহলে তিনিই আবার প্রধানমন্ত্রী হতেন। শেখ হাসিনা’র যত দুর্নাম ছিলো, গত ১৮ মাসের দুঃশাসনে তা মুছে গেছে, মানুষ বলছে, ‘আগেই ভাল ছিলাম’।
ওয়াশিংটনে ক’দিন আগে মার্কিন ও ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদ্বয়ের মধ্যে বাংলাদেশ নিয়ে কথাবার্তা হয়, এবং এর পরপরই ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত চটজলদি ভারতের রাষ্ট্রদূতের সাথে তার অফিসে গিয়ে বৈঠক করেন। পূর্বাহ্নে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সাক্ষাৎ করেন তারেক জিয়া, তার স্ত্রীকন্যার সাথে। জনশ্রুতি আছে এরপর হিসাব পাল্টে যায়। জামাত ক্ষমতায় আসলে মৌলবাদ আরো উৎসাহিত হবে, যা এ অঞ্চলের জন্যে উদ্বেগের কারণ হয়ে দেখা দিতে পারে। তদুপুরি জামাত প্রধান ও নেতাদের নারীবিদ্বেষী কথাবার্তা বুমেরাং হয়। বিএনপি ও অন্য প্রার্থীরা স্বাধীনতা সংগ্রামে জামাতের ভূমিকা বারবার ভোটারদের স্মরণ করিয়ে দেয়। বিএনপি ও জামাত দু’টোই ’ইসলাম পছন্দ’ দল, জামাত উগ্র। বিনেপি’র অবস্থান অনেকটা মাঝামাঝি।
বলা হচ্ছে, এক সপ্তাহের মধ্যে নির্বাচিত সরকার গঠন হবে, নুতন সরকার ক্ষমতাসীন হবে, ড. ইউনূসের কি হবে? উনি কি ক্ষমতা ছেড়ে দেবেন, লোকে কিন্তু বলছে যেনতেন প্রকারে তিনি ক্ষমতায় থাকতে চাইবেন। প্রেসিডেন্ট হতে হলে তো আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে? কিশোরীর প্রেম আর বুড়োদের ক্ষমতালিপ্সা নাকি বেজায় আবেগপ্রবণ হয়ে থাকে। ড. ইউনুস কি করবেন তা এখন দেখার বিষয়! ১৮০ কর্মদিবসের ঘাপলা কিন্তু রয়েই যাচ্ছে। নির্বাচনের পরে কি সেনাবাহিনী উঠে যাবে? নির্বাচন তো হয়ে যাচ্ছে, এখন দেখার বিষয় নির্বাচনের পরে কি? তবে রাজনৈতিক সরকার ড. ইউনুস সরকারের থেকে ভাল হবার কথা।
আজ ১১ই ফেব্রুয়ারী আমায় একজন প্রশ্ন করলো যে, তারেক জিয়া প্রধানমন্ত্রী হলে সজীব ওয়াজেদ জয় কি তাকে ‘অভিনন্দন’ জানাবে? বললাম, জানানো উচিত। কারণ রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি সৌজন্যমূলক সম্পর্ক থাকা উচিত। আপাতত: বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারেক ও জয়কে সামনে রেখে উভয় দল এগিয়ে যাবে বলেই ধারণা করা যায়। শেখ হাসিনা-খালেদা জিয়ার মধ্যে সম্পর্কের যে তিক্ততা ছিলো, তারেক-জয়ের মধ্যে সেটা নেই, জাতি আর প্রতিহিংসার রাজনীতি চায় না। আওয়ামী লীগ ও স্বাধীনতার স্বপক্ষের দলগুলোর অনুপস্থিতিতে এ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ থাকবে। জামাত ক্ষমতায় না গেলে মৌলবাদী শক্তি সন্ত্রাস সৃষ্টি করতে চেষ্টা করবে।
জামাত ক্ষমতায় গেলে বিএনপি’র নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হবে। আওয়ামী লীগের জন্যে সমস্যা বাড়বে। তবে আওয়ামী লীগ-বিএনপি অলিখিত জোট হবার সম্ভবনা থাকবে। এনসিপি’র চ্যাংড়া পোলাপাইন যেদল জিতবে সেই দলে ভীড়তে চেষ্টা করবে, জামাত এদের নিয়ে নেবে, বিএনপি কিছুটা ইতস্তত: করবে। কেউ কেউ দেশত্যাগ করবে, যেমন ড.আসিফ নজরুল ইতিমধ্যে চিকিৎসার নামে দেশ ছেড়েছে। বিএনপি-জামাত আগেও ছিলো, ভবিষ্যতেও থাকবে, ভাবছি পুলিশ প্রহরা না থাকলে ওই চ্যাংড়াগুলোর কি হবে? নুতন রাজনৈতিক পরিস্থিতির আলোকে আওয়ামী লীগকে সবকিছু নুতন করে ভাবতে হবে?
লেখক : আমেরিকা প্রবাসী।
