গৃহকর্মী নির্যাতন
বিমানের সাবেক এমডিসহ ৪ জন রিমান্ডে
স্টাফ রিপোর্টার : ১১ বছরের শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শফিকুর রহমান ওরফে সাফিকুর রহমানের পাঁচ দিনের এবং তার স্ত্রী বিথীর সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন রিমান্ডের এ আদেশ দেন। একইসঙ্গে দুই গৃহকর্মী রুপালী খাতুনের পাঁচ দিন এবং মোছা. সুফিয়া বেগমের ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক রুবেল মিয়া তাদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন।
আদালত রিমান্ড বিষয়ে শুনানির জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেন।
মঙ্গলবার রিমান্ড শুনানির জন্য তাদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তার উপস্থিতিতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল ও জামিন আবেদন করেন।
শুনানি শেষে আদালত বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।
মেয়েকে নির্যাতনের ঘটনায় হোটেল কর্মচারী বাবা গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গত ২ ফেব্রুয়ারি চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওইদিনই তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরে শফিকুর রহমানের বাসার নিরাপত্তাকর্মী জাহাঙ্গীর গোলাম মোস্তফাকে জানান, বাসায় বাচ্চা দেখাশোনার জন্য একটি ছোট মেয়ে খোঁজা হচ্ছে। পরে তাদের সঙ্গে মোস্তফার দেখা হয়।
শফিকুর রহমান ও তার স্ত্রী মোস্তফাকে জানান, তারা মেয়ের বিবাহসহ যাবতীয় খরচ বহন করবেন। এতে সম্মত হয়ে গত বছরের জুন মাসে মোহনাকে ওই বাসায় কাজে দেন মোস্তফা। সর্বশেষ গত বছরের ২ নভেম্বর ওই বাসায় মোহনাকে সুস্থ অবস্থায় দেখে আসেন তিনি।
এরপর আসামিরা আর মোহনাকে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেননি। গত ৩১ জানুয়ারি আসামি বিথী বাদী মোস্তফাকে ফোন করে জানান, মোহনা অসুস্থ এবং তাকে নিয়ে যেতে বলেন। এরপর গোলাম মোস্তফা মেয়েকে আনতে যান। বাসায় গেলে ওইদিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আসামি বিথী শিশু মোহনাকে তার বাবার কাছে বুঝিয়ে দেন।
তখন মোস্তফা মোহনাকে দুই হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম অবস্থায় দেখতে পান। সে ঠিকভাবে কথাও বলতে পারছিল না। বাদী বিথীকে এর কারণ জানতে চাইলে তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি। পরে তিনি মোহনাকে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান।
বাদীকে তার মেয়ে মোহনা জানায়, গত ২ নভেম্বর বাদী দেখা করে যাওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময়ে অকারণে শফিকুর রহমান ও বিথীসহ অজ্ঞাতপরিচয় আসামিরা তাকে মারধর করে এবং খুন্তি আগুনে গরম করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছেঁকা দিয়ে গুরুতর জখম করে।
(ওএস/এএস/ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২৬)
