সাতক্ষীরার ফিংড়িতে জমি নিয়ে বিরোধ
স্বামী ও স্ত্রীকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দুইজনকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। আজ শুক্রবার সকালের দিকে সাতক্ষীরার দক্ষিণ ফিংড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
দক্ষিণ ফিংড়ি গ্রামের অরুন সরদার জানান, একই গ্রামের আশুতোষ সরদারের ছেলে তাপস সরদার তাদের ১১ শতক জমি জোরপূর্বক জবরদখল করে রেখেছে। একইভাবে তার চিকিৎসার জন্য বাবা বৈদ্যনাথ সরকার ২০০৩ সালে তাপস সরদারের ভাই মানস সরদারের কাছ থেকে ১৬ শতক জমি (খাই খালাসি)৩০ হাজার টাকায় বন্ধক রাখে দাবি করে আসছিলো। টাকা দিয়ে জমি ফেরৎ নেওয়া ও জবরদখলকৃত জমি ফেরৎ চাইলে তাপস ও মানস তাকে নানাভাবে হুমকি ধামকি দিয়ে আসছিলো।একপর্যায়ে বন্দকী ১৬ শতক জমি সম্প্রতি মানসের কাছ থেকে কমলেশ মন্ডল কিনেছেন দাবি করে আম গাছ লাগালে তিনি বাঁধা দেন। একপর্যায়ে এক সপ্তাহ আগে তিনি জমিতে ২০টি কলাগাছ লাগান। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে তাপস সরদার, ভাই মানস সরদার, কমলেশ সরদার ও তার ছেলে শ্বশ্বত সরদার তাদের বাড়িতে এসে কলাগাছ লাগানোর হুমকি দিলে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ওই চারজন তাকে ও তার স্ত্রী সোনালী রানী দাসকে বাড়ির উঠানে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করে। বিষয়টি তারা স্থানীয় ফিংড়ি ইউপি চেয়ারম্যানকে অবহিত করে থানায় আসেন। পুলিশ তাদেরকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার পরামর্শ দিয়ে থানায় অভিযোগ করতে বলেন। পরে তারা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
এ ব্যাপারে তুষার সরদার মুঠোফোনে এ প্রতিবেদককে জানান, জমি নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে শুক্রবার সকালে অরুনের বাড়িতে কথা বলতে গেলে সে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ঘর থেকে দা বের করে আনে। একপর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে অরুন ও তার স্ত্রীর সাথে হাতহাতি হয়েছে। সন্ধ্যায় বাড়ির পাশে বটতলায় অরুন তার ভাই মানসকে মারপিট করেছে।
ফিংড়ি ইউপি চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি নিয়ে অরুন সরদার তার কাছে এলে তিনি একটি সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। ১১ শতক জমি ফিরে পাওয়ার জন্য তিনি একটি নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে কি অবস্থা তা তিনি জানেন না। অরুন ও তার স্ত্রীকে মারপিটের ব্যাপারে তাকে জানানোর পর থানা পুলিশ না করে পরিষদে অভিযোগ করে সমাধানের পরামর্শ দিয়েছেন অরুনকে।
(আরকে/এসপি/ফেব্রুয়ারি ১৩, ২০২৬)
