টাঙ্গাইল জেলার ভোটের সাতকাহন
রহিমা রহমান, টাঙ্গাইল : (কাস্টিং ভোটের ৫২ শতাংশ বিএনপি, ২৪ শতাংশ জামায়াত, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ ১শতাংশ, জাতীয় পার্টি ০.৪ শতাংশ,স্বতন্ত্র ও এনসিপিসহ অন্যান্য দল ২০ শতাংশ)
কড়া নিরাপত্তা ও কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে শেষ হলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় হতে জানা যায়,
বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই টাঙ্গাইলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষ হয়েছে । জেলার ৮টি আসনে মোট ভোটার ৩৩ লক্ষ ৩৪ হাজার ৪২৭ জন। কাস্টিং ভোটের পরিমাণ ২০ লক্ষ ৬৯ হাজার ৪২৯ টি যা মোট ভোটের ৬২ শতাংশ ।
নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রায় ১৯ হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দায়িত্ব পালন করছেন। এবার ৮ টি আসনে ৪৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলায় মোট ভোটকেন্দ্র ১ হাজার ৬৩টি'র মধ্যে ১৬০টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে এসব কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত পূর্বক নির্বাচনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয় ।
জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্যমতে, টাঙ্গাইল-১ আসনে মোট ভোট কাস্টিং হয়েছে ৬৫.৫৯ শতাংশ। কাস্টিং ভোটের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ৫৪ শতাংশ, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ইসলামি বাংলাদেশ পেয়েছে ৩৩ শতাংশ ভোট। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন ধানের শীষ প্রতীকে ১ লক্ষ ৫৩ হাজার ৯৩২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
টাঙ্গাইল-২ আসনে মোট ভোট কাস্টিং হয়েছে ৬৫.৫৯ শতাংশ। কাস্টিং ভোটের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ৭৩ শতাংশ, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ইসলামি বাংলাদেশ পেয়েছে ২৩ শতাংশ ভোট। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোঃ আবদুস সালাম পিন্টু ধানের শীষ প্রতীকে ১ লক্ষ ৯৮ হাজার ২১৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
টাঙ্গাইল-৩ আসনে মোট ভোট কাস্টিং হয়েছে ৬৩ শতাংশ। কাস্টিং ভোটের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ৩৫ শতাংশ, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছে ৬১ শতাংশ ভোট। এ আসনে বিএনপি'র বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ মোটরসাইকেল প্রতীকে ১ লক্ষ ৪৩ হাজার ৫৭৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
টাঙ্গাইল-৪ আসনে মোট ভোট কাস্টিং হয়েছে ৬০ শতাংশ। কাস্টিং ভোটের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ৪৬ শতাংশ, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ইসলামি বাংলাদেশ পেয়েছে ২২:শতাংশ ভোট। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী লুৎফর রহমান মতিন ধানের শীষ প্রতীকে ১ লক্ষ ৫ হাজার ৩৪২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
টাঙ্গাইল-৫ আসনে মোট ভোট কাস্টিং হয়েছে ৬২.২ শতাংশ। কাস্টিং ভোটের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ৪৫ শতাংশ, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ইসলামি বাংলাদেশ পেয়েছে ২৭ শতাংশ ভোট। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু ধানের শীষ প্রতীকে ১ লক্ষ ৩১ হাজার ২৭৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
টাঙ্গাইল-৬ আসনে মোট ভোট কাস্টিং হয়েছে ৬৯.৯৬ শতাংশ। কাস্টিং ভোটের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ৫৩ শতাংশ, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ইসলামি বাংলাদেশ পেয়েছে ৩২ শতাংশ ভোট। এ আসনে বিএনপি প্রার্থী মোঃ রবিউল আওয়াল লাভলু ধানের শীষ প্রতীকে ১ লক্ষ ৫০ হাজার ৯৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
টাঙ্গাইল-৭ আসনে মোট ভোট কাস্টিং হয়েছে ৫৮.১২ শতাংশ। কাস্টিং ভোটের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ৬৪ শতাংশ, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ইসলামি বাংলাদেশ পেয়েছে ৩৩ শতাংশ ভোট। এ আসনে বিএনপি শিশু বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ধানের শীষ প্রতীকে ১ লক্ষ ৪১ হাজার ২৫৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
টাঙ্গাইল-৮ আসনে মোট ভোট কাস্টিং হয়েছে ৬০.৬২ শতাংশ। কাস্টিং ভোটের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ৪৫ শতাংশ, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত ইসলামি বাংলাদেশ পেয়েছে ২২ শতাংশ ভোট। এ আসনে বিএনপি'র ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান ধানের শীষ প্রতীকে ১ লক্ষ ১৪ হাজার ২১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল জেলার ৮ টি সংসদীয় আসনে বিএনপির বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন টাঙ্গাইল ২ আসনের প্রার্থী মোঃ আবদুস সালাম পিন্টু। তার প্রাপ্ত ভোটের শতকরা হার ৭৩ শতাংশ। নির্বাচনে ভোটের ব্যবধানে রেকর্ড গড়েছেন বিএনপির সহসভাপতি আবদুস সালাম পিন্টু। দেশের সব আসনে বিজয়ীদের মধ্যে সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন তিনি।
অপর দিকে এ নির্বাচনে টাঙ্গাইল জেলার ৮ টি সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামী'র সকল পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভোট পেয়েও পরাজিত হয়েছেন টাঙ্গাইল ১ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুল্লাহেল কাফী । তার প্রাপ্ত ভোটের পরিমাণ ৯৪ হাজার ৪৬২ টি যা উল্লেখিত আসনের প্রদত্ত ভোটের শতকরা হার ৩৩ ।
(আরআর/এএস/ফেব্রুয়ারি ১৪, ২০২৬)
