রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেখ কবিরের দাফন সম্পন্ন
তুষার বিশ্বাস, গোপালগঞ্জ : কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ কবির হোসেনের দাফন রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হয়েছে।
আজ রবিবার বিকেলে গোপালগেঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে মা-বাবার কবরের পাশে তার মরদেহ সমাহিত করা হয়।
এদিন বেলা সাড়ে ১১ টায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে মরদেহ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সেখানে আত্মীয় স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
বাদ জোহর তাঁর প্রতিষ্ঠিত টুঙ্গিপাড়া খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেন স্কুল এ্যান্ড কলেজ মাঠে গার্ড অব অর্নার প্রদান করা হয়। তার পর সেখানে অনুষ্ঠিত হয় জানাযা।
এতে টুঙ্গিপাড়া-কোটালীপাড়া আসনের নব নির্বাচিত এমপি এসএম জিলানী, জেলা বিএনপির আহবায়ক শরীফ রফিকউজ্জামান, শেখ কবিরের ভাই শেখ নাদির হোসেন লিপু, পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন, পুলিশ ও প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ সহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
শেখ কবির হোসেন ১৯৪২ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা খান সাহেব শেখ মোশাররফ হোসেন এবং মা রাহেলা খাতুন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছিলেন। তার চাচাতো ভাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
তিনি বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, পর্যটন করপোরেশন ও সোনালী ব্যাংকে চাকরি করেছেন। ১৯৭৫ সালে তিনি সরকারি চাকরি থেকে পদত্যাগ করেন।
শেখ কবির হোসেন দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বীমা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারে অসামান্য অবদান রেখেছেন।
তিনি বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ২০১১ সালে। এরপর টানা ১৩ বছর এ পদে ছিলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৪ সালের ২৮ অক্টোবর এই পদ থেকে পদত্যাগ করেন। সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স ও ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।
এ ছাড়া তিনি ন্যাশনাল টি কোম্পানি, বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি, সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি ও ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং ইসলামিয়া আই ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ফারইস্ট ইন্টারন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয় সহ অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দেশের শিক্ষা বিস্তারে তিনি ব্যাপক অবদান রেখেছেন।
তার মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। এ শিক্ষা অনুরাগীর মৃতুতে শোক ও সমাবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স এসোসিয়েশন (বিআইএ) এবং শিক্ষা অনুরাগী ছাড়াও বিভিন্ন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারী) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানী ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে সহ অসংখ্যগুনগ্রাহী রেখে গেছেন।
(টিবি/এসপি/ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬)
