ঈশ্বরদী প্রতিনিধি : পাবনা-৪ (ঈশ্বরদী-আটঘরিয়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও পাবনা জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একতরফা সহিংসতা, হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি এসব ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর দৃষ্টি আকর্ষণ ও সহযোগিতা কামনা করেন।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ঈশ্বরদী পৌর শহরের ভেলুপাড়ায় নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন।

লিখিত বক্তব্যে অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল দাবি করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই ঈশ্বরদী-আটঘরিয়াসহ পাবনা জেলার বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও তাদের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের ওপর দফায় দফায় হামলা, গুলিবর্ষণ, মারধর, বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, লুটপাট এবং দখলবাজির ঘটনা ঘটছে। এমনকি জামায়াতের নারী কর্মীদের বোরকা ধরে টানা-হেঁচড়া ও শ্লীলতাহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত নেতাকর্মীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নবনির্বাচিত এই এমপি বলেন, “বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব, বিশেষ করে তারেক রহমানের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—তিনি যেন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দলের নেতাকর্মীদের সংযত রাখার কার্যকর উদ্যোগ নেন। আমি আশাবাদী, তিনি বিচক্ষণতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন।”

সংবাদ সম্মেলনে তিনি পাবনা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতার বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পাবনা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও আটঘরিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা জহুরুল ইসলাম খান, জেলা সেক্রেটারি মাওলানা অধ্যাপক আব্দুল গাফফার খান, জেলা তালিমুল কোরআন সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম রব্বানী খান জুবায়ের, জেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সহ-সভাপতি হাফেজ আমিরুল ইসলাম, ঈশ্বরদী উপজেলা সেক্রেটারি মো. সাইদুল ইসলামসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

(এসকেকে/এসপি/ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬)