একে আজাদ, রাজবাড়ী : রাজবাড়ীতে শিক্ষার্থীদের ১৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা নিয়ে উধাও হয়েছে নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিং সেন্টার নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এ ঘটনায় গত ৯ই ফেব্রুয়ারি রাজবাড়ী সদর আমলী আদালত কোর্টে ৪২০/৪০৬ ধারায় কোচিং সেন্টারের মালিক মেহেদী হাসান চিশতি সহ অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ এনে একটি মামলা দায়ের করেন কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থী মাহফুজা আক্তার মিতু (১৮)। সি. আর মামলা নম্বর ১৫৮/২০২৬।

মামলায় দণ্ডবিধির ৪২০/৪০৬ ধারায় অপরাধ আমলে নিয়ে আদালত কোচিং সেন্টারের মালিকের বিরুদ্ধে মামলাটি আমলে নিয়ে রাজবাড়ী সদর থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার বাদী শিক্ষার্থী মাহফুজা আক্তার জানান, তিনি সহ প্রায় ৩০ জন শিক্ষার্থী রাজবাড়ী শহরের পান্না চত্বরে নান্নু টাওয়ারের ৩য় তলায় নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিং সেন্টারের বিজ্ঞাপন দেখে ওই কোচিং সেন্টারে ভর্তির জন্য যোগাযোগ করেন। কোচিং সেন্টারের মালিক ও পরিচালক মেহেদী হাসান চিসতি তাদের জানান প্রতি শিক্ষার্থী ভর্তি বাবদ ৮ হাজার ২০০ টাকা লাগবে এবং সম্পূর্ণ টাকা অগ্রিম পরিশোধ করিতে হবে।

কোচিং সেন্টার থেকে তাদের জানানো হয় সকল শিক্ষার্থীর জন্য সপ্তাহে ৫ দিন ক্লাস এবং সপ্তাহে ১ দিন পরীক্ষা এবং প্রতি মাসে সকল বিষয়ে মডেল টেস্ট করানো হবে। সকল শিক্ষার্থীকে ৮ মাস যাবৎ কোচিং করানো হবে। তখন মাহফুজা আক্তার মিতু সহ সকলেই কোচিং সেন্টারের মালিকের কথায় বিশ্বাস করে তারা ৩০ জন গত ২০২৫ সালের ২৪ আগস্ট, ২৮ অক্টোবর ও ১১ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে নিউরন নার্সিং ভর্তি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হন।

তিনি আরও জানান, প্রথমে কিছুদিন ক্লাস নেওয়ার ১০ দিন পর থেকেই পরিচালক সহ তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাদের সাথে খারাপ আচরন করতে থাকে ও ক্লাস নেওয়া বন্ধ করে দেয়। ভর্তির সময় তাদের যে বই, প্রশ্ন ব্যাংক, মডেল টেস্ট বই দেওয়ার কথা ছিল তা না দিয়ে তাদের পুরাতন বই দেওয়া হয়।

মাহফুজা আক্তার আরও জানান, কোচিং সেন্টারের পরিচালক ও তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাদেরকে ভুল বুঝিয়ে পরীক্ষার কথা বলে মাথাপিছু ২০০ টাকা হারে গ্রহণ করার পর থেকেই কোচিং সেন্টার বন্ধ করে তারা লাপাত্তা হয়ে যায়। তখন তারা কোচিং সেন্টারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও যোগাযোগ করতে পারেনি। পরবর্তীতে বিষয়টি মাহফুজা আক্তার মিতু সহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাদের অভিভাবকদের সাথে আলোচনা করলে তাদের অভিভাবক ওই কোচিং সেন্টারের মালিক মেহেদী হাসান চিশতীর সাথে যোগাযোগ করলে ক্লাস নেওয়ার কথা জানালে ক্লাস নিবেনা মর্মে জানায় এবং টাকাও ফেরত দিবে না মর্মে জানায়।

পরে গত ৭ফেব্রুয়ারি সকাল ১০ টায় শিক্ষার্থীরা ও তাদের অভিভাবকেরা কোচিং সেন্টারের মালিককে পেয়ে ক্লাস নেওয়ার কথা জানালে সে অস্বীকৃতি জানায় এবং টাকা ফেরত দিবেনা বলেও সে জানান। তখন কোচিং সেন্টারের মালিক মেহেদী হাসান শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে খারাপ আচরণ করে।ওই সময় শিক্ষার্থীরা টাকা পুনরায় চাইলে কোচিং সেন্টারের মালিক সহ অন্যান্য কর্মচারীরা তাদের মেরে ফেলার হুমকি প্রদান করে।

শিক্ষার্থী মাহফুজা আক্তার মিতু আরও জানান, কোচিং সেন্টারের মালিক মেহেদী হাসান চিশতী শিক্ষার্থীদের সাথে প্রতারণা করে ক্লাস,পরীক্ষা ও মডেল টেস্ট ও প্রশ্ন ব্যাংক সরবরাহ না করে প্রায় ১৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে উধাও হয়ে গেছে।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী এ্যাড. শাহরিয়ার জামান রাজিব বলেন, নিউরন নার্সিং কোচিং সেন্টারের মালিকের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ এনে মাহফুজা আক্তার মিতু নামের এক শিক্ষার্থী মামলা দায়ের করলে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে রাজবাড়ী সদর থানাকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে নার্সিং বাদেও বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি কোচিং, বিসিএস কোচিং, মেডিকেল ও ডেন্টাল ভর্তি কোচিং, ক্যাডেট ভর্তি কোচিং, স্পোকেন ইংলিশ, প্রাইমারীর শিক্ষক নিয়োগ কোচিং সহ সরকারি চাকুরির কোচিং করানো হতো। কিন্তু প্রায় একমাসের বেশি সময় সকল কোচিং কার্যক্রম বন্ধ রেখে প্রতিষ্ঠানটি তালাবদ্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি পরিচালক সহ অন্যান্য কর্মচারীরা অর্থ শিক্ষার্থীদের অর্থ হাতিয়ে নিয়ে তারা লাপাত্তা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানে ভর্তিরত শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে।

৫১ তম বিসিএস প্রস্তুতির জন্য ওই প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস মীম বলেন, এককালীন ৯ হাজার টাকা অগ্রিম দিয়ে গত তিনমাসে আগে এই কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিলাম।কিন্তু গত এক মাস ধরে তারা কোন ক্লাস নিচ্ছে না। কোচিং সেন্টারে গেলে তালাবদ্ধ দেখা যায়।তারা আমার সাথে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে।আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ বিষয়ে নিউরন নার্সিং কোচিং সেন্টারের মালিক মেহেদী হাসান চিসতির বক্তব্য নিতে তাকে ফোন করা হলে তার নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।

(একে/এসপি/ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬)