স্পোর্টস ডেস্ক : জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের পর স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও ৮ উইকেটে হার। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে জয় দিয়ে আসর শুরু করলেও টানা দুই হারে অজিদের ড্রেসিংরুমে গভীর হতাশার চিত্র উঠে এসেছে অধিনায়ক মিচেল মার্শের কণ্ঠে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হারের পর দলের ভেতর সবাই ভেঙে পড়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন মার্শ। তিনি বলেন, ‘দলটা ভেঙে পড়েছে বলা যায়। সবাই ভীষণভাবে হতাশ। এখন আমাদের ভাগ্য নির্ভর করছে ঈশ্বরের ওপর। ড্রেসিংরুমে অনেক আবেগ কাজ করছে। আমরা আমাদের সেরাটা খেলতে পারিনি। মনে হয় আগামীকালের (আজ) ম্যাচটা (জিম্বাবুয়ে বনাম আয়ারল্যান্ড) আমরা সবাই দেখব। একসঙ্গে বসে দেখব কি না, সেটা পরে ঠিক হবে। আর কী-ই বা বলার আছে? আইরিশদের ভাগ্যই কি আমাদের ভরসা?’

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ৮ ওভারে বিনা উইকেটে ৯৭ রান তোলে অস্ট্রেলিয়া। এতে করে বার্তা পাওয়া যায় যে, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পরাজয়ের গ্লানি ভুলে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে অজিরা। কিন্তু পরের ১২ ওভারে গড়ে মাত্র ৭ করে রান তুলতেই সবকটি উইকেট হারায় মার্শের দল। মাঝের ওভারে অজি ব্যাটারদেরব ব্যর্থতাই তাদের ভুগিয়েছে বেশ। মার্শের মতে, এই অংশটিই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

তিনি বলেন, ‘আজ আমাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নেই ঘাটতি ছিল। পূর্ণশক্তির ব্যাটিং লাইনআপে স্পিনের বিপক্ষে দেশের সেরা কিছু ব্যাটার আছে। কিন্তু শ্রীলঙ্কা দারুণভাবে ম্যাচে ফিরেছে। শুরুটা ভালো হলেও আমরা রান কিছুটা কম করেছি। দ্বিতীয় ইনিংসে নামার আগে ওই রানগুলো দরকার ছিল। আমার বিশ্বাস ছিল আমরা কাজটা শেষ করতে পারব, কিন্তু আমরা প্রতিপক্ষের চেয়ে পিছিয়ে পড়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যদি ২২০ রান করতাম তাহলে কী হতো, সেটা এখন আর বলার সুযোগ নেই। তবে ভালো ভিত পেয়েও শেষদিকে আমরা কাজে লাগাতে পারিনি। এই কন্ডিশনে জুটি গড়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এটা আমরা জানি। ওপেনিং জুটির পর আর কোনো বড় জুটি গড়তে পারিনি, যা ইনিংসকে আবার গতি দিত।’

টুর্নামেন্টের পরের পর্বে ওঠা নিয়ে অস্ট্রেলিয়া এতটাই আত্মবিশ্বাসী ছিল যে, চোটে থাকা জশ হ্যাজেলউডের কোনো বিকল্প খেলোয়াড় তারা নেয়নি। এতদিন ঝুলছিল দ্রুতগতির বোলার শন অ্যাবট নাকি ব্যাটার স্টিভেন স্মিথ, কাকে দলে নেওয়া হবে। অবশেষে গতকাল সোমবার জানানো হয় হ্যাজেলউডের বিকল্প হিসেবে দলে যোগ দিচ্ছেন স্টিভেন স্মিথ। যদিও কুঁচকির চোট থেকে ফেরা মার্শের কারণে খেলা হয়নি স্মিথের।

তবে দল নির্বাচনে এই অনিশ্চয়তাকে বর্তমান অবস্থার জন্য দায়ী করতে রাজি নন মার্শ। তিনি বলেন, ‘গত দুই বছরে সাদা বলের স্কোয়াডে প্রায় প্রতিটি সফর ও ম্যাচেই পরিবর্তন এসেছে। অনেক সময় পরিস্থিতি আপনাকে বাধ্য করে। আজ আমরা প্রতিপক্ষের চেয়ে পিছিয়ে ছিলাম, এটাই বাস্তবতা। আর সেটাই হতাশার।’

(ওএস/এএস/ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬)