বিশ্বজিৎ সিংহ রায়, মহম্মদপুর : প্রকৃতিতে এখন ঋতুরাজ বসন্তের উচ্ছ্বাস। ফাল্গুনের রোদ, নির্মল নীল আকাশ আর মৃদুমন্দ বাতাসের সঙ্গে প্রকৃতিজুড়ে শুরু হয়েছে রঙের অপার মেলা। এরই মাঝে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরে ফুটে ওঠা পলাশ ফুল যেন বসন্তের আগমনী বার্তাকে আরও উজ্জ্বল করে তুলেছে।

উপজেলা পরিষদের প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে থাকা পলাশ গাছ এখন রক্তিম ও কমলা রঙের ফুলে ভরে উঠেছে। দূর থেকে তাকালে মনে হয়, সবুজের বুক চিরে আগুনের শিখা জ্বলে উঠেছে। প্রকৃতির এই অনন্য সাজ পথচারীদের থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করছে। অনেকেই এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউবা নিঃশব্দে উপভোগ করছেন বসন্তের এই অপরূপ রূপ।

পলাশ ফুলের উজ্জ্বল রঙ ও অনন্য গঠন প্রকৃতিকে দেয় বিশেষ মাত্রা। এর বাঁকানো পাপড়িগুলো অনেকটা বাঘের নখের মতো, যা ফুলটিকে দিয়েছে ভিন্ন এক বৈশিষ্ট্য। এ কারণেই কবি-সাহিত্যিকরা পলাশকে ভালোবেসে ‘অরণ্যের অগ্নিশিখা’ নামে অভিহিত করেছেন। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে পলাশের রয়েছে বিশেষ স্থান।

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর কবিতা ও গানে পলাশ এসেছে নতুন জীবন, তারুণ্য ও আশার প্রতীক হয়ে। বসন্তের গানে “হলুদ গাঁদার ফুল, রাঙা পলাশ ফুল"-এই চিরচেনা পংক্তি এখনও মানুষের হৃদয়ে বসন্তের আবেগ জাগিয়ে তোলে।

শুধু সৌন্দর্যের জন্যই নয়, পলাশের রয়েছে নানা ঔষধি গুণও। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে পলাশের ছাল, ফুল ও বীজ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে বহু যুগ ধরে। একসময় দোল উৎসবের প্রাকৃতিক আবির তৈরিতেও পলাশ ফুলের ব্যবহার ছিল ব্যাপক।

স্থানীয় জানান, বসন্ত এলেই পলাশ ফুল তাদের কাছে নতুন প্রাণের বার্তা নিয়ে আসে। পলাশের ঝরা পাপড়ি মাটির বুকে তৈরি করে লাল গালিচার মতো দৃশ্য, যা প্রকৃতির এক অনন্য শিল্পকর্মের মতো মনে হয়।

পলাশ শুধু একটি ফুল নয়,এটি বসন্তের প্রতীক, নতুনের আহ্বান এবং প্রাণের উচ্ছ্বাসের প্রতিচ্ছবি। যান্ত্রিক জীবনের ব্যস্ততার মাঝেও পলাশ যেন মানুষকে মনে করিয়ে দেয়-প্রকৃতি তার নিজস্ব সৌন্দর্যে এখনও উদার, এখনও জীবন্ত।

বসন্ত আসে প্রতি বছর, কিন্তু পলাশের রঙ ছাড়া সেই বসন্ত যেন পূর্ণতা পায় না। তাই পলাশ মানেই বসন্ত, পলাশ মানেই নতুন দিনের অগ্নিশিখা।

(বিএস/এসপি/ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬)