মোহাম্মদ সজীব, ঢাকা : মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্রের পক্ষে মত প্রকাশের কারণে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলায় দুই মাস ধরে কারাবন্দি রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। তারা দাবি করেছেন, ভিন্নমত দমনের কৌশল হিসেবে তাকে টার্গেট করা হয়েছে।

আনিস আলমগীরের সহধর্মিণী শাহনাজ চৌধুরী বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের সময় কোনো সাংবাদিক মত প্রকাশের কারণে জেলে যায়নি—এ দাবি সঠিক নয়। সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে শুধু মত প্রকাশের কারণে দুই মাসের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি করে রাখা হয়েছে।”

সাংবাদিক আনিস আলমগীরের পরিবার বলছেন, গত ১৫ ডিসেম্বর রাজধানীর ধানমণ্ডি এলাকা থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আনিস আলমগীরকে আটক করে। পরে একই রাতে উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এরপর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে আরেকটি মামলা করে।

তার আইনজীবী আসলাম মিয়া অভিযোগ করেন, “দুটি মামলাই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাকে আগে আটক করে পরে মামলা দেওয়া হয়েছে, যা আইনের পরিপন্থী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখা কোনো মতামত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় পড়ে না।”

দুদকের দাবি, আনিস আলমগীরের ঘোষিত আয়ের তুলনায় প্রায় ৩ কোটি ২৬ লাখ টাকার অতিরিক্ত সম্পদ পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে তার আইনজীবীর বক্তব্য, সম্প্রতি একটি সম্পত্তি বিক্রির অর্থ ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন হওয়ায় সেটিকে ভুলভাবে ‘জ্ঞাত আয়বহির্ভূত’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।

এদিকে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান গত ১৫ ফেব্রুয়ারি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কোনো সাংবাদিক মত প্রকাশের কারণে কারাবন্দি হয়নি। তবে বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সরকারের সমালোচনা করে সামাজিক মাধ্যম ও টক শোতে সক্রিয় থাকায় আনিস আলমগীরকে আটক করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, আনিস আলমগীর একসময় দৈনিক ‘আজকের কাগজ’-এ কর্মরত ছিলেন এবং ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধ কভার করে তিনি দেশজুড়ে পরিচিতি পান। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি টেলিভিশন টক শো ও সামাজিক মাধ্যমে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের সমালোচনা করে আলোচনায় ছিলেন। তার পরিবার ও আইনজীবীরা অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

(এস/এসপি/ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬)