দেবহাটায় ব্যবসায়ী নাসিরউদ্দিনকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা, ৩ আসামি জেল হাজতে
রঘুনাথ খাঁ, সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের নাসিরউদ্দিন নামের এক ব্যবসায়িকে পিটিয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় তিন আসামীকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সাতক্ষীরার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম- ২ আদালতের বিচারক নুসরাত জাহান জামিন আবেদন না’মঞ্জুর করে এ আদেশ দেন।
জামিন না’মঞ্জুর হওয়া আসামীরা হলেন, দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের সবেদ আলী সানার ছেলে রফিকুল সানা, একই গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে রাজিব হোসেন ও শাকিল হোসেন।
সাতক্ষীরা আদালতের পুলিশ উপপরিদর্শক মোঃ মিন্টু হোসেন জানান, নাসিরউদ্দিন গাজীর দায়েরকৃত মামলায় দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের সবেদ আলী সানার ছেলে রফিকুল সানা, গোলাম মোস্তফার ছেলে রাজিব হোসেন ও শাকিল হোসেন এবং শওকত হোসেনের ছেলে ভেদো মঙ্গলবার আদালতে হাজির হয়ে আইনজীবী অ্যাড. অজয় কুমার সরকারের মাধ্যমে জামিন আবেদন করে। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তিনি জামিনের প্রবল আপত্তি করেন। একপর্যায়ে উভয়পক্ষের শুনানী শেষে বিচারক ভেদোকে জামিনে মুক্তির আদেশ দিলেও রফিকুল সানা, রাজিব ও শাকিলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। বিকেলে তাদেরকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, দেবহাটা উপজেলার দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের কোরবান গাজীর ছেলে পারুলিয়া বাজারের “আমিন ফিস” এর স্বত্বাধিকারী নূর আমিন গাজী একই গ্রামের নাসিরউদ্দিন গাজীর বাবা দিদার বক্স গাজীর কাছ থেকে ২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত দুটি চুক্তিপত্রের বিনিময়ে বিঘা প্রতি ১৩ হাজার টাকা হারিতে ৫৪ বিঘা জমি নয় বছর মেয়াদী লীজ নেন। লীজ বাবদ বকেয়া ৩৫ লাখ টাকা চাইতে গেলে নাসির উদ্দিনকে নানাভাবে হয়রানি করা হতো। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়েও কোন লাভ না হওয়ায় পাওনা টাকার দাবিতে ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ করেন নাসির। বিষয়টি জানতে পেরে নাসিরকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন নূর আমিন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৭ নভেম্বর র রাতে পারুলিয়া বাসস্টা- এলাকা থেকে বিনা অপরাধে নূর আমিন পুলিশ দিয়ে নাসিরউদ্দিনকে থানায় তুলে নিয়ে পরদিন একটি বিচারাধীন মামলায় চালান দেন বলে অভিযোগ।
জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর নাসির আবারো জমির লীজ পাওয়ার দাবিতে বিভিন্ন স্থানে দেনদরবার শুরু করেন। একপর্যায়ে তিনি গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে নূর আমিনের বিরুদ্ধে লীজের টাকার দাবিতে অভিযোগ করেন। মেয়াদ শেষে ৩১ ডিসেম্বর তার ঘেরের জমি মুক্ত করে না দেওয়া ও পাওনা টাকার দাবিতে গত ২ জানুয়ারি নাসির দেবহাটা থানায় অভিযোগ করেন নূর আমিনের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানতে পেরে গত ৫ জানুয়ারি রাত ১১ টার দিকে সততা হোটেল থেকে বের হওয়া মাত্রই নূর আমিনের নির্দেশে তার আত্মীয় দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের সবেদ আলী সানার ছেলে রফিকুল সানা, মোস্তফার ছেলে (রফিকুলের জামাতা) রাজীব, ভাই সাকিল, নূর আমিনের ভাগ্নে ভেদোসহ ১০/১২ জন তাকে লোহার রড দিয়ে নাসিরকে এলোপাতড়ি পিটিয়ে জখম করে। পুলিশ নাসিরউদ্দিনকে উদ্ধার করে সখীপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এ ঘটনায় নাসিরউদ্দিন গাজী বাদি হয়ে গত ১৪ জানুয়ারি সাতক্ষীরার ৭নং আমলী আদালতে (সিআর-১১/২৫ দেবহাটা) নূর আমিনসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। বিচারক নুসরত জাহানের নির্দেশে মামলাটি দেবহাটা থানায় রেকর্ড(জিআর-১২/২৬ দেবঃ) করা হয়। প্রভাবশালী হওয়ায় নূর আমিন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে থাকে।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ জাকির হোসেন জানান, পলাতক আসামীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
(আরকে/এসপি/ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২৬)
