স্টাফ রিপোর্টার : ‘গত দেড় বছর উন্নত চিকিৎসা না পাওয়ায় আমার চোখ পচে যাচ্ছে। শুধু আমি নই, এমন অনেক জুলাই যোদ্ধা চিকিৎসার অভাবে দিন দিন আরও খারাপ অবস্থায় চলে যাচ্ছেন।’

কথাগুলো বলছিলেন আহত জুলাই যোদ্ধা ইমরান। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ১৮ জুলাই ঢাকার উত্তরার আজমপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে ডান চোখে গুরুতর আঘাত পান তিনি।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে দাঁড়িয়ে তিনি যখন এসব কথা বলছিলেন, ঠিক তখনই সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় চলছিল নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান।

ইমরান জানান, নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে আহত যোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রবেশের অনুমতি থাকবে এমনটি তারা জেনেছিলেন। কিন্তু সেখানে গিয়ে নিরাপত্তায় দায়িত্বে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের কাছে জুলাই যোদ্ধার পরিচয়পত্র দেখিয়েও কোনো সুফল পাননি। বরং তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ইমরান বলেন, ‘নতুন সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। আমাদের লড়াই সার্থক হয়েছে। তবে আমরা চাই, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এই সরকার আমাদের অবদানের কথা মনে রাখুক। আমাদের যেন ভুলে না যায়।’

জুলাই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইমরান। তিনি বলেন, আহত যোদ্ধাদের অনেকেই এখনও উন্নত চিকিৎসা পাননি। দ্রুত উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে সরকারি পুনর্বাসনের দাবি জানান তিনি।

তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন, ক্ষমতাসীন দল জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে কাজ করবে এবং প্রয়োজনীয় সংবিধান সংস্কার দ্রুত সম্পন্ন করবে।

একই স্থানে কথা হয় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আশুলিয়া থানার সামনে গুলিবিদ্ধ হওয়া মিজানুর রহমানের সঙ্গে। তিনি জানান, চোখে গুলি লাগার পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে গুলি বের করা হলেও বর্তমানে তার চোখে জটিলতা দেখা দিয়েছে এবং পচন ধরার উপক্রম হয়েছে। নতুন সরকারের কাছে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

মিজানুর রহমান বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশে সবাই যেন নিরাপদে বসবাস করতে পারে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

(ওএস/এএস/ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২৬)