বসন্তে ফুটেছে দৃষ্টিনন্দন লাল রঙের শিমুল
বিশ্বজিৎ সিংহ রায়, মহম্মদপুর : শীতের রুক্ষতা কাটিয়ে প্রকৃতিতে যখন বসন্তের আবির্ভাব ঘটে,তখন চারপাশ রাঙিয়ে ফুটে ওঠে শিমুল ফুল। মাগুরার বিভিন্ন উপজেলা ও গ্রাম অঞ্চলে মাঠ, রাস্তার ধারে, বনভূমি কিংবা খোলা প্রান্তরে উঁচু শিমুল গাছে লাল রঙের এই ফুল যেন বসন্তের আগমনী বার্তা বহন করে।
গাছের ডালে বসে পাখি ডাকছে, বাংলাদেশ-এর প্রকৃতিতে বসন্তের অন্যতম সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবে পরিচিত শিমুল ফুল।
শিমুল ফুল সাধারণত মাঘের শেষ থেকে ফাল্গুন মাসে ফুটতে শুরু করে এবং চৈত্র মাস পর্যন্ত থাকে। এই সময় গাছের পাতা প্রায় ঝরে যায় এবং খালি ডালে শুধু লাল ফুল ফুটে থাকে। ফলে দূর থেকেই গাছটি লাল আগুনের মতো দেখায়। বসন্তের শুরুতেই শিমুল ফুল প্রকৃতিকে নতুন রূপে সাজিয়ে তোলে। শিমুল ফুলের রং ও বৈশিষ্ট্য শিমুল ফুলের প্রধান রং উজ্জ্বল লাল।
তবে কিছু ক্ষেত্রে কমলা-লাল আভাও দেখা যায়। ফুলগুলো আকারে বড়,পুরু পাপড়িযুক্ত এবং গাছে গুচ্ছ আকারে ফুটে থাকে। ফুল ঝরে পড়ে মাটিতে লাল কার্পেটের মতো দৃশ্য তৈরি করে, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যে শিমুলের গুরুত্ব শিমুল ফুল শুধু সৌন্দর্যের জন্যই নয়, পরিবেশের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই ফুল মৌমাছি, পাখি ও অন্যান্য কীটপতঙ্গের খাদ্যের উৎস। শিমুল গাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে এবং বাতাস বিশুদ্ধ রাখতে সাহায্য করে।
গাছের ফল থেকে তুলার মতো পদার্থ পাওয়া যায়,যা বালিশ,গদি ও অন্যান্য সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
গ্রামীণ অর্থনীতিতেও শিমুল গাছের ভূমিকা রয়েছে। সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যে শিমুল বাংলার সাহিত্য, কবিতা ও সংস্কৃতিতে শিমুল ফুলের বিশেষ স্থান রয়েছে।
বসন্তের প্রতীক হিসেবে এই ফুলকে ভালোবাসা, সৌন্দর্য ও নতুন জীবনের প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। অনেক কবি ও সাহিত্যিক তাদের লেখায় শিমুল ফুলের সৌন্দর্যের বর্ণনা দিয়েছেন।
প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের প্রতীক প্রকৃতিবিদদের মতে, শিমুল ফুল শুধু একটি ফুল নয়, এটি বসন্তের পরিচয় বহনকারী একটি প্রাকৃতিক নিদর্শন।
লাল রঙের এই ফুল মানুষকে প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা ও পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়।
বসন্ত এলেই শিমুল ফুলের লাল আভায় রাঙিয়ে ওঠে চারপাশ। তাই শিমুল ফুলকে প্রকৃতির এক অনন্য সৌন্দর্যের প্রতীক হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।
(বিএসআর/এএস/ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬)
