আবদুল হামিদ মাহবুব


ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস, আমরা আপনাকে সময়ের প্রয়োজনে, দেশের প্রয়োজনে, ক্ষমতায় বসিয়েছিলাম। আপনি ১৮ মাস নেতৃত্ব দিয়ে দেশ পরিচালনা করেছেন। আমি বুঝি, ক্ষমতার চেয়ারে বসেই আপনি বুঝতে পেরেছিলেন উত্তপ্ত কড়াইয়ে পড়েছেন। তখন আর আপনার কিছু করার ছিল না। আপনি ছেড়ে যেতে পারতেন, কিন্তু আমরা সে পথ বন্ধ করে রাখি। ছেড়ে গেলে আপনিও পলাতক বলে অভিহিত হতেন।

এই ক্ষমতায় বসানোর সুযোগ নিয়ে, আপনি আপনার অনেক ধরনের ব্যক্তিগত ফায়দাও হাসিল করেছেন বলে অনেক কথা আছে। গভীর এই বিষয়গুলো আমি জানিনা। এই কারণে আমি অন্তত ওই বিষয়গুলো নিয়ে কোন অভিযোগ উত্থাপন করছি না। আগামী সময়ে সেগুলো পরিষ্কার হবে জাতির সামনে।

এই খোলাচিঠি লেখার উদ্দেশ্য একটি। সেটা হচ্ছে জাতির উদ্দেশ্যে বলা আপনার প্রথম টেলিভিশন ভাষণে যেসব কথা বলেছিলেন, তার কতটুকু করতে পেরেছেন, আর করতে পারেননি, আপনি সেটা ভালো জানেন। শেষ বিদায়ের ভাষণে তার কিছু কিছু বলেছেন। করতে না পারারও অনেকগুলো কারণ আছে। আমরা আপনাকে সহায়তা করিনি। বরঞ্চ ১৯৪ টি আন্দোলন আপনার সময়ে দানা বাধিয়ে আপনাকে অস্থির করে রেখেছি।

এই অস্থিরতার মধ্যেও আপনি মাথা ঠান্ডা রেখে যেসব মৌলিক কাজগুলো করে গেলেন, তার জন্য জাতি আপনাকে চিরজীবন স্মরণ রাখতে হবে। অবশ্যই এটা আমরা ইতিবাচক ও নেতিবাচক হিসাবেও স্মরণ করব। সকলের চিন্তা সকলের সাথে মিলে না। প্রতিটি মানুষের আলাদা আলাদা চিন্তাভাবনা থাকে। যার সাথে যেটা মিলবে সে সেই বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করবে সাধুবাদ জানাবে। যার সাথে মিলবে না সে নেতিবাচক মন্তব্য করবে, আপনাকে নিন্দাবাদ দেবে ।

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়ে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনাসহ সকল পক্ষের একটা ধারণা ছিল আপনি দেশে নির্বাচন না দিয়ে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকতে চাইবেন। কিন্তু সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত করে আপনি নির্বাচন দিয়ে বিদায় নিয়েছেন। আপনার পরবর্তী জীবন আরো উজ্জ্বল হবে, এটা আমার আশাবাদ।

তবে এই যে রমজান শুরু হয়েছে। রমজান শেষে ঈদ। এই কারণে আমার জানতে ইচ্ছে হচ্ছে; আপনি রোহিঙ্গাদের ক্যাম্পে গিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের সামনে তাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন, আগামী ঈদ তারা তাদের নিজেদের ভূমিতে গিয়ে করবে। এইটার কতদূর করে যেতে পারলেন? বিষয়টির কোন ব্যাখ্যা পাইনি। ব্যাখ্যা দিলেও আমার চোখে পড়েনি। তাই যদি আমার এই লেখা কোনভাবে আপনার চোখের সামনে যায়; আমি আশা করব সেই ব্যাখ্যাটা আপনি দেবেন।

আমি বুঝেছি, আপনি ভীতু নন, পলায়নপরও না। কোন বিষয় পাশ কাটিয়েও যাওয়ার বিরোধী মানুষ। দুনিয়াব্যাপী আপনার সুনাম আছে। সেই সুনাম ধরে রাখার জন্য অন্তত রোহিঙ্গাদের প্রসঙ্গটি আপনি পরিষ্কার করবেন।

লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও শিশু সাহিত্যক।