শাহ্‌ আলম শাহী, দিনাজপুর : নিখোঁজ ছেলেকে ফিরিয়ে দিতে পরিবারের কাছে ২ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করছে কতিপয় একটি চক্র। ইতোমধ্যে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে জোরপূর্বক স্ট্যাম্পে এবং অব্যবহৃত ব্যাংকের চেকে স্বাক্ষরও নিয়েছে তারা। ২০ ফেব্রুয়ারি আগামিকাল শুক্রবার তাদের দাবিকৃত ২ কোটি দিতে না দিলে পরিবারের সদস্যদের হত্যা করবে বলেও মুঠোফোনে হুমকি দিয়েছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করেও তারা কোন সুরাহা পাচ্ছেন না।এনিয়ে বিপাকে পড়েছে ওই পরিবারটি। জিম্মি দশা থেকে মুক্তি ও নিখোঁজ ছেলেকে ফিরে পেয়ে পরিবারটি সংবাদ সম্মেলন করেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে, দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ পৌর শহরের শহীদপাড়া এলাকায়। তবে অভিযোগ দায়েরের সত্যতা স্বীকার করলেও পুলিশ বলছে,ভিন্ন কথা। পাওয়া টাকা ফিরে পেতে কতিপয় ভুক্তভোগী লোকজন একত্রিত হয়ে ওই পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করছে।

বোচাগঞ্জ উপজেলার পৌর শহরের শহীদপাড়া এলাকার মো. জিল্লুর রহমানের স্ত্রী তাসমিনা বেগম বিনা (৫০) গতকাল দুপুরে নিজবাড়িতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, আমরা নিখোঁজ ছেলে তহিদুল ইসলাম তুহিনকে ফেতর ও দুই কোটি টাকা ছেলের মুক্তিপদ চাঁদা দাবি করা চক্র থেকে মুক্তি চাই। আগামীকাল ২০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবারের মধ্যে দুই কোটি টাকা তাদের না দিলে তারা আমাদের হত্যা করবে বলেও হুমকি দিয়েছে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি একজন গৃহিনী। স্বামী দুই ছেলে এক মেয়ে নিয়ে শান্তিতে বসবাস করে আসছিলাম। আমাদের সাথে কারো ঝগড়া ঝাটি ও বিবাদ নেই কিন্তু হঠাৎ করে ২৭ জানুয়ারী ২০২৬ ইং গভীর রাত ১২ ঘটিকায় কতিপয় যুবকেরা আমাদের বাড়ীতে জোরপূর্বক প্রবেশ করে দেশীয় অস্ত্রের মাধ্যেমে পরিবারের সকলকে জিম্মি করে বৈদ্যুতিক তাঁর বিছিন্নর মাধ্যেমে বাড়ীঘর অন্ধকার করে ফেলে। এই ঘটনার পর এক সপ্তাহ আগে থেকে আমার বড় ছেলে তহিদুল ইসলাম তুহিনকে খুঁজে পাচ্ছি না। আমরা সকলেই আতংকিত ও ভিত হয়ে পড়ি। বাড়ীর প্রধান ফটকে দুটি তালা ঝুলিয়ে দিয়ে আমার স্বামী ও ছোট ছেলেকে এলোপাথারী মারধরের মাধ্যমে জোর পূর্বক ১শত টাকা মূল্যের ৫টি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে এবং ব্যাংকের ৫টি ব্লাইং চেকে স্বাক্ষর করে নিয়ে নেয়।

তিনি আরো বলেন, এরপর থেকে প্রতিনিয়ত মুঠো ফনের মাধ্যমে বাড়ীর সদস্যদের ফোন করে ছেলের মুক্তিপন হিসেবে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবী করে আসছে। কখনো কখনো রাতে ৫/৭ জন যুবক বাড়ীর দরজায় এসে ধাক্কাধাক্কী এবং লাখী মেরে হুমকার দিয়ে তাদের দাবীকৃত ২ কোটি টাকা চাইছে। না দিলে আমাদের পরিবারের সদস্যদের গুম ও হত্যা করার হুমকী দিচ্ছে। এ বিষয়ে বোচাগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। কিন্তু অপরাধীরা এতই শক্তিশালী যে, এখনো বাড়ীতে এসে দরজায় লাথালার্থী ও ২ কোটি টাকা দাবী করে আসছে। চলতি ফেব্রুয়ারী মাসের ২০ তারিখে ছেলের মুক্তিপন চাঁদার ২ কোটি টাকা না দিলে ঐ দিন আমাদের পরিবারের সদস্যদের হত্যা করবে বলে হুমকী দিচ্ছে। আমরা তাদের ভয়ে বাড়ী থেকে বের হতে পারছিনা। বাড়ীতে জিম্মি দশায় মানবেতর জীবন যাপন করছি এ ছাড়াও আমার ছেলেকেউ খুঁজে পাচ্ছিনা।

আমাদের এই সংকটময় মহুর্তে আপনাদের স্মরণাপন্ন হতে বাধ্য হয়েছি। আপনারা ক্ষুরাধার লেখনীর মাধ্যমে আমাদের এই মহা সমস্যার বিষয়টি তুলে ধরে প্রশাসনের সু-দৃষ্টির মাধ্যমে আমাদেরকে শান্তিতে বসবাস করার নিশ্চিয়তা দাবী করছি।'

লিখিত বক্তব্য পাঠ করার সময় অঝরে কেঁদে ফেলেন নিখোঁজ তুহিনের মা বিনা। সংবাদ সম্মেলনে নিখোঁজ তুহিনের পরিবারের অন্যান্য সদস্য এবং স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

এ বিষয়ে বোচাগঞ্জ থানায় যোগাযোগ করা হলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো.মিজানুর রহমান মিজান
পরিবারের তাসমিনা বেগম বিনার অভিযোগ দায়েরের বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করলেও বলেছেন ভিন্ন কথা।

তিনি বলেছেন, মূলত পাওয়া টাকা ফিরে পেতে কতিপয় ভুক্তভোগী লোকজন একত্রিত হয়ে ওই পরিবারকে চাপ প্রয়োগ করছে। তার ছেলে তহিদুল ইসলাম তুহিন রাজধানী ঢাকা থেকে প্রলোভনে ফেলে প্রতারণার মাধ্যমে অনেক ব্যক্তির কাছে মোটা অংকের টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। তাই,প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা পাওয়া টাকা ফেরত পেতে একত্রিত হয়ে পরিবারটির কাছে এসেছেন। প্রথমে তারা আমাদের পুলিশের কাছেও সহযোগিতা চেয়েছিলেন। আমরা বলেছি, প্রমাণ থাকলে আপনারা আদালতের মাধ্যমে টাকা তুলে নিন। আমর‍্য এবিষয়ে তাদের সহযোগিতা করতে পারবো না। ওই পরিবারের সংবাদ সম্মেলনের অভিযোগ সঠিক নয়। তার ছেলে তুহিন অপহরণ বা জিম্মিদশা থেকে মুক্তি পেতে দুই কোটি টাকা চাঁদা দাবির বিষয়ও সঠিক নয়। তুহিন পাওনাদারদের টাকা ফেরত দিতে না পেরে আত্মগোপন করে আছেন।

(এসএস/এসপি/ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২৬)